স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: মালদহের চাঁচোলে এসে মৌসম নুরকে ‘বেইমান’ বলেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি৷ সেই মালদাতে দাঁড়িয়েই তার জবাব দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ সামসির সভায় মমতা বললেন, ‘‘কংগ্রেস-বিজেপি আঁতাঁত করেছে৷ তাই মৌসম তৃণমূলে যোগ দিয়ে বেশ করেছে৷’’

আরও পড়ুন: ভোটের আগের রাতে ১৫ লক্ষ নগদ উদ্ধার জলপাইগুড়িতে

কংগ্রেসের গড় মালদহ৷ জেলার দু’টি লোকসভা কেন্দ্রে ২০১৪ সালের ভোটে হাত শিবিরের মুঠোয় ছিল৷ কিন্তু দিন যত এগিয়েছে, মালদহে শক্তি কমেছে কংগ্রেসের৷ উত্তর মালদহের সাংসদ গনি ভাগ্নি মৌসম-ও কংগ্রেস ছেড়ে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে৷ এবার ভোটে উত্তর মালদহ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীও মৌসম বেনজির নুর৷

এদিন মৌসমের হয়েই সামসিতে সভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ সেখানেই মৌসমের দল বদলের কারণ ব্যাখ্যা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর কথায়, ‘‘কংগ্রেস ছাড়ার জন্য অনেকেই মৌসমকে কটুক্তি করছে৷ কিন্তু মৌসম যা করেছে বেশ করেছে৷’’ তৃণমূল সুপ্রিমোর সংযোজন, ‘‘বাংলায় যারা কংগ্রেস করে তারা বিজেপির সঙ্গে আঁতাঁত করেছে৷ তাই ওই দলে থেকে বিজেপির সঙ্গে লড়াই করা যায় না৷ তাই মৌসম দল ছেড়ে ভোলো করেছে৷’’ মমতা নাম না করে নিশানা করেন রাহল গান্ধীকে৷

আরও পড়ুন: রাজনীতির লড়াইয়ে ময়দানের সতীর্থরাই ভরসা ফুটবলার প্রার্থীর

তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি, ‘‘কংগ্রেস বিজেপিকে হারাতে পারবে না৷ দিল্লিতে সরকার গড়তে তৃণমূল সাহায্য করবে৷ তাই সিপিএম, কংগ্রেস বা বিজেপিকে সমর্থন করে ভোট নষ্ট করবেন না৷’’ মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যায়, ‘‘মোদীকে হারাতে লড়ছে তৃণমূল৷ আমরাই একমাত্র লড়াকু দল৷ তাই লড়াকু নেত্রী হিসাবে আমাদের দলে এসেছেন মৌসম নুর৷’’

আরও পড়ুন: ভোট দিলে এই হোটেলের খাবারে মিলবে ৫০ শতাংশ ছাড়

আগেও বলেছেন, এদিনের প্রচারেও তৃণমূল নেত্রী বাংলায় কংগ্রেস আরএসএস আঁতাঁত নিয়ে সরব হন৷ মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘‘বহরমপুর ও জঙ্গিপুরে কংগ্রেস প্রার্থীদের জেতাতে লড়ছে আরএসএস৷ ওদের আদর্শ শুধু মুখে৷ বাস্তবে তৃণমূলকে হারাতে সবাই এক৷’’ প্রসঙ্গত, বহরমপুর ও জঙ্গিপুরে কংগ্রেসের প্রার্থী অধির চৌধুরী ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়৷

মালদহে কংগ্রেস মানেই গনি খান মিথ৷ সেই কংগ্রেস গড়ে গিয়ে হাত শিবিরের পাশাপাশি এদিন বিজেপিকেও আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি সরকার মিথ্যাবাদীর সরকার৷ বাংলায় ভেদাভেদার রাজনীতি করে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে বিজেপি৷ ২০১৪-র প্রতিশ্রুতি একটাও বাস্তবায়িত করেননি তারা৷ তাই জুমলা সরকাকে এবার দিল্লি থেকে সরিয়ে দিতে হবে৷’’ দিল্লি দখলের জন্য বাংলায় ৪২-এ ৪২ আসনের দাবি জানান তৃণমূল নেত্রী৷

আরও পড়ুন: মৌসমের প্রচারসভায় উপচে পড়া ভিড়, বাবা-বাছা বলে সামলালেন মমতা

মালদহে কংগ্রেসের প্রভাব রয়েছে৷ ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে প্রবল ঘাসফুল হাওয়াতেও মালদহে তেমন আসন পায়নি তৃণমূল৷ যদিও পঞ্চায়েত ভোটে জেলা পরিষদ শাসক দলের হাতে গিয়েছে৷ কিন্তু তাতেও স্বস্তিতে নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাই কংগ্রেস-বিজেপিকে এক পংক্তিতে বসিয়েই সামসিতে সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী৷