কলকাতা: সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুদিনে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক দেওয়ালে সাহিত্যিক শরৎচন্দ্রের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য জানান মমতা। মমতার পাশাপাশি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও শরৎচন্দ্রকে শ্রদ্ধা জানান।

মৃত্যুর বহু বছর বাদেও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রাসঙ্গিক। লেখার মধ্যে দিয়ে এখনও বহু পাঠকের মধ্যে বিরাজ করেন তিনি। বাংলাই পাঠকের কাছে শরৎচন্দ্রের নতুন করে পরিচয় দেবার কিছু নেই। যুগ যুগ ধরে তিনি প্রবেশ করে আছেন বাঙালির অন্তরে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্য ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর।

হুগলির দেবানন্দপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই লেখালিখির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। পরে লেখি হয়ে ওঠে তাঁর সব সময়ের আশ্রয়। তাঁর ছোটবেলা কেটেছিল বিহারের ভাগলপুরে মামার বাড়িতে। সেখান বহু কথা এসে পড়ে পড়েছে তাঁর লেখায়। ছেলেবেলার বন্ধুরা তাঁকে ন্যাঁড়া বলে ডাকত।

পরবর্তীতে শরৎচন্দ্রের একাধিক উপন্যাস জনপ্রিয়তা লাভ করে। তাঁর লেখা দেবদাস, বড়দিদি, বিরাজবৌ, বিন্দুর ছেলে, পরিণীতা ইত্যাদি পাঠক মহলে সুপরিচিত। শরৎচন্দ্রের একাধিক লেখা থেকে সিনেমা বানানো হয়েছে। দেবদাস-এর বাংলা ও হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন প্রমথেশ বড়ুয়া, কানন দেবী, উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, দিলীপ কুমার, সুচিত্রা সেন, সুপ্রিয়া দেবী, সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়, শাহরুখ খান, ঐশ্বর্য রাই বচ্চন, মাধুরী দীক্ষিত প্রমুখ।

১৯৩৭ সালে অসুস্থ হয়ে পড়েন শরৎচন্দ্র। সেই সময় বিধানচন্দ্র রায় তাঁর চিকিৎসা করেছিলেন। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৩৮ সালে ১২ জানুয়ারি কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন হয় শরৎচন্দ্রর। এর চারদিন বাদেই আজকের দিনে প্রয়াত হন সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।