কলকাতা: কিছুদিন আগে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে ‘বিজেপির মাউথপিস’ বলে আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এবার কয়েক ধাপ এগিয়েই রাজ্যপালকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ নাম না করেই ধনকড়ের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘তু চিজ বড়ি হ্যায় মস্ত মস্ত’৷

সংবিধান দিবস উপলক্ষে রাজ্য বিধানসভায় দু’দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। সেই উপলক্ষেই মঙ্গলবার রাজ্যপালের ভাষণ ছিল। বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ বিধানসভায় ঢোকেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর দিকে তাকাননি ধনখড়। সোজা এগিয়ে যান। এরপর আম্বেদকরের মূর্তিতে মালা দিয়ে ঢুকে যান বিধানসভার অধিবেশনকক্ষে। তখনও দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এড়িয়ে যান রাজ্যপাল। তারপর রাজ্যপাল বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানের সঙ্গে কথা বলেন৷ জানতে চান, কেমন আছেন? কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর দিকে একবারের জন্যও তাকাননি৷

এরপর নিজের ভাষণে নাম না করে তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন ধনখড়। কোনওরকম রাখঢাক না করে তিনি বলেন, ”পশ্চিমবঙ্গে কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে কাজ করতে হচ্ছে আমাকে। সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সমঝোতা করতে হচ্ছে।” এমনকি এই অনুষ্ঠানে তাঁকে শেষ মুহূর্তে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানান ৷

এরপর বাংলার প্রসঙ্গে না গিয়ে মোদীর-কাশ্মীর নীতির ঢালাও স্তুতি করলেন রাজ্যপাল ধনকড়। তাঁর কথায়, ”কাশ্মীরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নকে সফল করেছেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁকে জঙ্গি দমনে সমর্থন করা উচিত।’

পরে রাজ্যপালের নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতাতেই খোঁচা দিয়ে বললেন, “অনেকের কথা শুনে ইদানীং হাসি পায়। ওই যে একটা গান আছে না! তু চিজ বড়ি হ্যায় মস্ত মস্ত!”

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “আমরা জানি তো আপনাকে কে পাঠিয়েছেন, আর কেন পাঠিয়েছেন। সাংবিধানিক প্রধানের কতটা এক্তিয়ার রয়েছে তাও জানি। রাজভবনে কাট আউট লাগাবেন কিনা সেটা এবার ভাবতে বলুন”।

এদিন রাজ্যপালের মন্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী এতটাই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন যে, রাজ্যপালের গাড়ি পর্যন্ত তাঁকে ছাড়তে আসেননি৷ প্রোটোকল অনুযায়ী গাড়ি পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর ছাড়তে আসার কথা। কিন্তু রাজ্যপালের অনেকটা পিছনে হেঁটে বিধানসভার গাড়ি বারান্দায় দাঁড়ান এসে দাঁড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।