স্টাফ রিপোর্টার, দার্জিলিং: উত্তরবঙ্গ জুড়ে যা কাজ হয়েছে তা কখনও হয়নি। তবু দুঃখ কেউ কেউ বলে কোনও কাজ হয়নি। যারা একথা বলে তারা শুধু নিজেদের স্বার্থ বোঝে। প্রশাসনিক বৈঠক থেকে এভাবেই ঘুরিয়ে বিজেপিকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার উত্তরকন্যায় কোচবিহার, দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, “যারা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তারা সবচেয়ে বড় গুন্ডা। হাজারটার মধ্যে একটা ভুল হয়ে গেলেই নৃত্য করবে। টাকা থাকলে মিথ্যে খবর করানো যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যে রটাচ্ছে। রাজনীতি মানে মিথ্যে কথা বলা নয়। রাজনীতি মানে দায়বদ্ধতা।”

উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের ভোট ব্যাংকে থাবা বসিয়েছে বিজেপি। উত্তরবঙ্গের সবকটি আসন জিতেছে তারা। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা সাইকেল দিচ্ছি। আর দিল্লি থেকে এসে বলছে ওগুলো দিল্লি থেকে দেওয়া। দিল্লি কা লাড্ডু জানেন তো খেলেই পস্তাবেন।” কেন্দ্রের তরফ থেকে কোনও আর্থিক সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে না বলেও আরও একবার অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এছাড়াও এদিনের বৈঠকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে উত্তরের প্রত্যেক জেলায় একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে বলেই জানান তিনি। রাস্তাঘাট থেকে পর্যটন সর্বত্র উন্নয়নের জোয়ার এসেছে বলেই খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রত্যেক জেলায় তৈরি হয়েছে হাসপাতাল। এছাড়াও মাল্টিসুপার হাসপাতালও তৈরি করা হয়েছে। রাস্তাঘাট সংস্কার করা হয়েছে। পর্যটনকে ঢেলে সাজাতে ভোরের আলোর মতো প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নানা ধরনের সাফারি চালু করা হয়েছে।”

এদিন পাহাড়ের আধিবাসী উন্নয়ন বোর্ডের জন্য ১০ কোটি টাকা মঞ্জুর করার পাশাপাশি রাজ্যের নমঃ শুদ্র উন্নয়ন বোর্ডের জন্য বাড়তি ৩ কোটি টাকা মঞ্জুর করে করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে স্বর্ন ধান চাষ বাড়ানোর পাশাপাশি কাশফুলের চাষ করতেও উৎসাহ দেন তিনি।

উত্তরকন্যার এই বৈঠক থেকেই এ দিন মুখ্যমন্ত্রী জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। বাগডোগরা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের জন্য ১০৪ একর জমি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এদিন এই তিন জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিশদে খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। কালিম্পঙের পরিস্থিতি এখনও ঘোরালো বলে মুখ্যসচিব রাজীব সিনহার কাছে জানতে পেরেই এর কারণ জানতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অবিলম্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নির্দেশ দেন। কালিম্পঙের মতো পাহাড়ি এলাকায় কেন করোনা বাড়ছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি গ্রিন জোনে যাতে কোনওভাবেই সংক্রমণ ছড়াতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।