বালুরঘাট: শাসক দলের অঙ্গুলি হেলনে জেলাশাসক মুখ্যমন্ত্রীকে পুরোপুরি মিথ্যে কথা বলেছেন। তৃণমূলের দোষ আড়াল করতে উল্টে বিজেপির ঘাড়েই দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন। শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এভাবেই জেলাশাসককে মিথ্যেবাদী বলে সম্বোধন করলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাপরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায়।

জেলাশাসক নিখিল নির্মলের বিরুদ্ধে তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন জেলাপরিষদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁকে ফোন করা হলে তিনি তা রিসিভ পর্যন্ত করার সৌজন্যতা দেখান না। এমনকি পঞ্চায়েত আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে জেলাশাসক তৃণমূলের হয়ে কাজ করছেন বলেও সভাধিপতি অভিযোগ করেছেন।

গত ১৯ নভেম্বর দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় জেলাশাসকের কাছে জেলাপরিষদ ও জেলার উন্নয়নে ব্যার্থতা কারণ জানতে চেয়েছিলেন। সেই সময় জেলাশাসক নিখিল নির্মল সরাসরি সভাধিপতি সহ বিজেপির পাঁচ সদস্যের উপর দায় চাপিয়ে বলেছিলেন তাঁরাই তাঁকে কাজ করতে দিচ্ছেন না। মুখ্যমন্ত্রীর সেই প্রশাসনিক সভায় জেলাশাসকের বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আজ সভাধিপতি লিপিকা রায় ও পূর্তকর্মাধ্যক্ষ মফিজুদ্দিন মিয়া দুইজনেই তাঁকে মিথ্যেবাদী আখ্যা দিয়েছেন।

সেদিন মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন সভাধিপতি সহ বিজেপির পাঁচ সদস্যকে বাদ দিয়েই জেলাপরিষদের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এর পরেই জেলাশাসক জেলাপরিষদের কাজকর্ম সংক্রান্ত বিষয়ে সহকারী সভাধিপতি ললিতা টিগ্গা সহ তৃণমূলের তেরো জন সদস্য ও প্রাক্তন সংসদ অর্পিতা ঘোষকে নিয়ে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পরেই শুক্রবার সহকারী সভাধিপতি জেলাপরিষদের রাস্তা ও পানীয়জলের কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

জেলাপরিষদের নিজের চেম্বারে সাংবাদিক সম্মেলন করে সভাধিপতি লিপিকা রায় অভিযোগ করেন যে জেলাশাসক পুরোপুরি পঞ্চায়েত আইনকে লঙ্ঘন করছেন। এব্যাপারে তাঁরা আইনি পথেই হাঁটবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি এই অভিযোগও করেন যে জেলাশাসক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁদের সম্পর্কে পুরোটাই মিথ্যে বলেছেন যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলাশাসক নিখিল নির্মল। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও তৃণমূল জেলাসভাপতি অর্পিতা ঘোষ জেলাশাসকের পদক্ষেপ কে সঠিক বলেই জানিয়েছেন। তিনি এই দাবিও করেছেন যে জেলাপরিষদের মোট আসনের এক তৃতীয়াংশ তাঁদেরই থাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠতায় উন্নয়নের কাজে এখন আর কোন সমস্যাই থাকতে পারে না।