স্টাফ রিপোর্টার, ডায়মন্ড হারবার: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশ সহ সমগ্র গোবলয়ে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে অযোধ্যার রাম মন্দির ইস্যু। বাংলায় ওই মন্দিরের প্রভাব বিশেষ ছিল না। কিন্তু ভোট প্রচারের শেষ লগ্নে সেই রাম মন্দিরই প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠল।

ভোটের ময়দানে রাম মন্দির ইস্যু কিন্তু বিজেপি নিয়ে আসেনি। বিতর্কিত অযোধ্যার রাম মন্দিরের কথাটি শোনা গিয়েছে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। অবশ্যই মোদী সরকারকে কটাক্ষ করে অযধ্যার রাম মন্দিরের ইস্যুটি খুঁচিয়ে তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।

বিতর্কের সূত্রপাত গত মঙ্গলবার কলকাতায় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের রোড শো নিয়ে। সেই শোভাযাত্রা ঘিরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলকাতায় বিধান সরনী এবং কলেজ স্ট্রিট এলাকা। তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদ এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পরে। বিদ্যাসাগর কলেজের মধ্যে থাকা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে ফেলে হয়।

বৃহস্পতিবার নরেন্দ্র মোদী বাংলায় পঞ্চধাতুর মূর্তি গড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যা নিয়ে পালটা প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। এদিন ডায়মন্ড হারবারের সভায় দাঁড়িয়ে মোদীকে উদ্দেশ্য করে মমতা বলেন, “গত পাঁচ বছরে তুমি ছোট রাম মন্দির তৈরি করতে পারোনি। আর তুমি বিদ্যাসাগরের স্ট্যাচু করবে!” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “বাংলার মানুষ ভিক্ষা চায় না। অনেক হয়েছে।”

বিদ্যাসাগর কলেজের এই মূর্তি ভাঙা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। তৃণমূল এবং বিজেপি দুই পক্ষই পরস্পরকে দোষারোপ করছে। নিজেদের দাবির স্বপক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রমাণও পেশ করা হয়েছে দুই দলের পক্ষ থেকে। দুই পক্ষেরই জোরাল দাবি নিয়ে বিতর্ক আরও বেড়েছে।

এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার জন্য কাঠগড়ায় তোলেন তৃণমূলের গুণ্ডাবাহিনীকে। উত্তর প্রদেশের এক নির্বাচনী জনসভায় দাড়িয়ে তিনি বলেন, “আমরা যথাস্থানে বিদ্যাসাগরের মূর্তি গড়ে দেব।” এই বিষয়টি নিয়ে বিজেপি এবং মোদী সরকারকে আক্রমণ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মথুরাপুরে নির্বাচনী জনসভায় হাজির ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই জনসভা থেকেই প্রকাশ্যে নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করেন তিনি। মূর্তি ভাঙা এবং গড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি বলেন, “উনি(প্রধানমন্ত্রী) বলছেন ফের মূর্তি গড়ে দেবেন। বাংলার মূর্তি গড়ার টাকা আছে। উনি কী ২০০ বছরের ঐতহ্য ফিরিয়ে দিতে পারবেন?”