বেঙ্গালুরু: ‘বিজেপি আঞ্চলিক দল শেষ করার খেলায় মেতেছে, আঞ্চলিক দল না থাকলে দেশ চলবে না’ কর্ণাটকে মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আগেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এমন কথাই বললেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

বুধবার, কর্ণাটকে কুমারস্বামীর শপথ গ্রহণ উপলক্ষে উপস্থিত হয়েছিলেন সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, সীতারাম ইয়েচুরি, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মায়াবতী, তেজস্বী যাদব, শরদ পাওয়ার, সিদ্দারামাইয়া সহ দেশের তাবড় তাবড় নেতা-নেত্রীরা। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে থাকবেন সেখানে মধ্যমণি যে তিনিই হবেন তা আরেকবার প্রমাণ করে দিলেন তিনি৷

বুধবার, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন জেডিএস নেতা কুমারস্বামী। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বিজেপি বিরোধী দলের নেতা নেত্রীরা৷ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পরই একসঙ্গে ছবি তোলেন বিজেপি বিরোধী ফেডারেল ফ্রন্টের নেতারা৷ এদিকে শপথ গ্রহণের আগেই, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মমতা বলেন, ‘বিজেপি আঞ্চলিক দলগুলিকে শেষ করার চেষ্টা করছে৷ তবে, সেই উদ্যোগ সফল হবে না৷ আর আঞ্চলিক দল শেষ হলে দেশ চলবে না’৷

এই নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু জোটের সর্থকতা নিয়ে বলতে গেলে তাঁকে থামিয়ে দিয়ে মমতা বলেন, ‘আমরা সবাই এখানে এসেছি কুমারস্বামীকে সমর্থন করতে৷ আমরা সমস্ত আঞ্চলিক দল এক হয়ে দেশের উন্নতির জন্য কাজ করব’৷ মমতা আরও বলেন, ‘রাজ্য শক্তিশালী হলে তবে দেশ দেশ শক্তিশালি হবে’৷ সমস্ত আঞ্চলিক দলকে এক হয়ে লড়ার ডাক দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

শুরুটা করেছিলেন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী৷ ২০১৯ সালে একা কংগ্রেসের পক্ষে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়া সম্ভব নয়, বুঝতে পেরেছেন সনিয়া৷ তাই ২০১৭ সালের জুলাইয়েই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই শুরু করেছিলেন ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে ফ্রন্ট গড়ার প্রস্তুতি৷ তখনও তাঁর প্রধান সেনাপতি ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আর বুধবার থেকে মমতার অধিনায়কত্বেই যে ফেডারেল ফ্রন্টের নতুন যাত্রা শুরু হলো সেটা এককথায় পরিস্কার।

যদিও, ১৯-২০ টি আঞ্চলিক দলের সব মতানৈক্য দূর করে আদৌ ফেডারেল ফ্রন্ট গড়ে ওঠে কিনা সেটা প্রশ্নের৷ তবে, সব আঞ্চলিক দল নিয়ে সত্যি এই ফেডারেল ফ্রন্ট গড়ে উঠলে তা বিজেপির পক্ষেও যে যথেষ্ট চিন্তাজনক হবে তা বলাই যায়৷ আর তাই, বুধবার কুমারস্বামীর শপথের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল তথাকথিত ফেডারেল ফ্রন্টের নেতাদের কি আলোচনা হয় সেটা নিয়েও। তবে, সেই আলোচনার মুখও যে মমতা হবেন, সেটা পরিস্কারই ছিল।