কলকাতা: রাজ্যপালকে ফের কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর৷ নাম না করে রাজ্যপালকে বিজেপি মুখপত্র বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এর আগে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে তিনি বিজেপির লোক বলেছিলেন৷

বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকে রাজ্যপালের সমালোচনা করেন৷ তিনি বলেন, বিজেপির মুখপত্র হিসেবে কারও কারও মুখে কথা শোনা যাচ্ছে।মনোনীত কেউ কেউ মাঝে মাঝে সীমা পেরিয়ে যাচ্ছেন৷ সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর চেষ্টা করছেন৷ নাম না করে রাজ্যের রাজ্যপালকে তিনি মনে করিয়ে দেন,কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার উভয়েই নির্বাচিত৷ সংবিধান মেনে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো থাকা উচিত৷

রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় রাজ্যে আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বার বার সংঘাত হয়েছে৷ কিন্তু তারমধ্যে সৌজন্যের নজিরও রয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কালিপুজোয় গিয়েছিলেন রাজ্যপাল৷ এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো তথা তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সদ্যজাত পুত্র আয়াংশকে দেখতে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়৷ পরে প্রতি শুভেচ্ছা হিসেবে রাজভবনে মিষ্টিও পাঠান তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷

সৌজন্যের থেকে সংঘাতের নজিরই বেশি৷ সম্প্রতি রাজ্যপালকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘বিজেপির পার্টি ম্যানকে নিয়ে আমাকে কোন প্রশ্ন করবেন না৷ আমি কোনও উত্তর দেব না৷ উনি বিজেপির লোক।’এর আগে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় রাজ্যপালের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘উনি রাজনৈতিক দলের মুখপত্রের মতো কথা বলছেন৷’এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালের নাম না করে তাকে বিজেপির মুখপত্র বললেন৷

এর আগে মুখ্যমন্ত্রীর- রাজ্যপাল সংঘাত শুরু হয়েছিল কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে৷ ওই প্রকল্প নিয়ে রাজ্যপাল বলেছিলেন, “অনেক দরিদ্র মানুষ আছেন, যারা চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছেন না৷ তাই আমার কাছে তিন হাজারেরও বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছে। দেখা গিয়েছে তাঁদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সুবিধা পাওয়ার জন্য অনেকেই যোগ্য৷ স্বাস্থ্যই মানুষের সম্পদ৷ রাজ্যের স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনীতি করা উচিৎ নয়।”

রাজ্যের নাগরিকদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে রাজ্যপাল আরও বলেছিলেন, “কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে রাজ্য অন্তর্ভুক্ত করুক। রাজ্যে স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো নয়। রাজনীতির মধ্যে স্বাস্থ্যকে যুক্ত করবেন না।”