বলরামপুর: পুরুলিয়া সফরে গিয়ে প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের একাধিক লোকসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা ঘোষণা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বলরামপুরের জনসভায় তিনি বলেন, বাংলা লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের যতগুলি লোকসভা কেন্দ্র রয়েছে তাতে প্রার্থী দেবে তৃণমূল৷

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সফরের আগেই স্কুলে-রাস্তায় আলফা জঙ্গি পতাকা

এর আগে কলকাতায় দলীয় সাংগঠনিক বৈঠকে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা সহ বিভিন্ন রাজ্যে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মমতা৷ এদিন পুরুলিয়া থেকেও ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন তিনি৷ বলেন, ওই রাজ্য থেকে বাংলায় উপদ্রব করার জন্য লোক ঢোকানো হচ্ছে৷

ছবি সৌজন্যে : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক পেজ

এদিন পুরুলিয়ার দলীয় কর্মীদের দলনেত্রী নির্দেশ দেন, বিজেপির কাজ এরাজ্যে লোক ঢুকিয়ে রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টি করা৷ এটা চলতে দেওয়া যায় না৷ বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানায় তৃণমূল কর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন৷ বলেন, ‘‘রাজ্যের বাইরে ঝাড়খণ্ডে গিয়ে কাজ করতে হবে৷ সংগঠন বাড়াতে হবে৷ লোকসভায় ওই রাজ্যে লড়াই করার জন্য প্রার্থী দেবে তৃণমূল৷’’

আরও পড়ুন: বড় সাফল্য, এনকাউন্টাকে খতম কুখ্যাত লস্কর জঙ্গি নাভেদ জাঠ

সপ্তাহ কয়েক আগেই নাম না করে মুকুল রায়কে বেইমান বলেছিলেন তৃণমূল নেত্রী৷ জানিয়েছিলেন তার জন্য বিধানসভায় ত্রিপুরার সংগঠন ভেঙে গিয়েছে৷ পরাজয় হয়েছে দলীয় প্রার্থীদের৷ এবার ত্রিপুরায় সংগঠন বাড়াতে পদক্ষেপ করেছেন তিনি৷ স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন আগামীতে তাঁর লক্ষ্য ত্রিপুরা জয়৷ ক্রমেই দলের কার্যকলাপের সীমা বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ এদিন বলরামপুর থেকে জানিয়ে দিলেন বিনা যুদ্ধে ঝাড়খণ্ডের মাটি থেকে তিনি ফিরবেন না৷

প্রতিবেশী রাজ্যে গেরুয়া শিবিরকে দুর্বল করার পাশাপাশি বাংলাতেও বিজেপিকে নিশ্চিহ্ন করার ডাক দেন তৃণমূল নেত্রী৷ বলেন, ‘‘বাংলায় গতবার বিজেপি দু’টো লোকসভা আসন জিতেছিল৷ এবার একটিও পাবে না৷ বিজেপির রেজাল্ট হবে শূন্য৷’’

আরও পড়ুন: কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহারে ‘গরমিল’

আসন্ন লোকসভা ভোটে জাতীয়স্তরে বিজেপি বিরোধী জোট গঠনের অন্যতম উদ্যোগী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি জানেন, বিজেপি দুর্বল হলেই তাদের লাভ৷ যত বেশি লোকসভা আসন দখল করা যাবে ততই লাভ রাজনীতির নানা সমীকরণে৷ তাই বিজেপি শাসিত রাজ্যে সংগঠন বাড়িয়ে একদিকে গেরুয়া বাহিনীকে ধাক্কা দেওয়া, অন্যদিকে বাংলা থেকে বিজেপিকে মুছে দেওয়াই আপাতত পাখির চোখ তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছে৷