স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড থাকলেই নাগরিকত্ব প্রমাণ হবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একথা সাফ জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর প্রশ্ন, “ভোটার কার্ড হবে না বলছেন।তা হলে ভোটে জিতে ক্ষমতায় এলেন কীসের ভিত্তিতে?”

অমিত শাহর মতে, আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড নাগরিকত্ব নির্ধারণ করে না। আধার তো নয়ই। কারণ আধার কার্ডের অন্য একটি উদ্দেশ্য রয়েছে।একমাত্র নাগরিক পঞ্জিতে (এনআরসি) নাম থাকলে তবেই প্রমাণিত হবে৷ কোনও ব্যক্তি ভারতের নাগরিক এবং সেই কারণেই গোটা দেশে দ্রুত এনআরসি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর সরকার। অমিতের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে সর্বস্তরে। বিরোধীদের প্রশ্ন, এত দিন ধরে যাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে এলেন, তাঁরা যদি নাগরিক না-হন, তা হলে কারা এ দেশের নাগরিক?

বুধবার মমতা বলেন, “আধার কার্ড চলবে না, এ কথা কেন বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? আধার কার্ড জরুরি নয় তা হলে জনতার ৬ হাজার টাকা খরচ করালেন কেন? আধার না চাইলে ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণ করালেনই বা কেন? কটাক্ষের সুরে মমতার প্রশ্ন, দেশের নাগরিক প্রমাণে আধার চলবে না তো কি বিজেপির মাদুলি চলবে?”

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন প্রত্যাহারের দাবিতে দফায় দফায় পথে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন ফের ওই একই আইনের বিরোধিতায় হাওড়া ময়দান থেকে মিছিলে হাঁটেন মমতা। মিছিল হাওড়া ময়দান থেকে মিছিল শুরু হয়ে বঙ্কিম সেতু, গুলমোহর, হাওড়া ব্রিজ ব্রেবন রোড হয়ে টি বোর্ডের সামনে দিয়ে লালবাজার, বেন্টিঙ স্ট্রিট, ধর্মতলার ধরে ডোরিনা ক্রসিং-এ এসে শেষ হয় মিছিলটি। মিছিল শেষে ফের বিরোধী শিবিরকে এর হাত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাগরিক আইন-এনআরসি প্রসঙ্গে অমিত শাহকে বিঁধে বলেন, “আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দেশে আগুন লাগানো আপনার কাজ না সেটা আপনি বুঝুন।”

এদিন মমতা বলেন, “হিংসা চাইনা বলেই আন্দোলনের পথে নেমেছি৷ এক হাজার বুলেটের যা দাম, দশটা মানুষ পথে নেমে কথা বললে তার দাম বেশি৷”

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।