স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ইভিএমের বদলে ব্যালটে ভোটের দাবি৷ ২১শের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, রাজ্যে আগামী পুরভোট হবে ব্যালটেই৷ এই ঘোষণায় আপত্তি নেই বিজেপির৷ গেরুয়া নেতৃত্বের প্রশ্ন, ব্যালটেই তো ভোট হয়েছিল পঞ্চায়েতে৷ তাহলে কেন ভোট করতে দেননি রাজ্যের শাসক দল৷

তাদের কটাক্ষ, হতাশা থেকেই এখন ব্যালটের দোহাই দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ লোকসভা ভোটে ইভিএমে কারচুপি হতে পারে৷ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ এদিকে, মোদী-শাহ জুটির দাবি সত্যি করে লোকসভা ভোটে ৩০০ আসন পার করে যায় বিজেপি৷ এতেই আগুনে ঘি পড়ে৷ বলেন, ‘‘বিজেপি প্রতরণা করে, প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে ভোটে জিতেছে৷ রাজ্যে তাও সংখ্যগরিষ্ঠ আসন পাননি৷’’

নিজের তোলা অভিযোগ প্রমাণে মরিয়া হয়ে ওঠেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই ব্যালটে ভোট করার দাবিতে নতুন করে সরব হতে দেখা যায় তাঁকে৷ এদিনও মঞ্চ থেকে ইভিএমের বদলা ব্যালটে ভোটের দাবি তরা হয় তৃণমূলের তরফে৷ অভিষেক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবাই আওয়াজ তোলেন৷ তৃণমূল নেত্রীর ঘোষণা, ‘‘রাজ্যে পরের বছর পুরভোট হবে৷ তখন ব্যালটেই ভোট হবে৷’’ এর আগে পঞ্চায়েত ভোটও হয়েছে ব্যালটেই৷ যা নিয়ে অভিযোগ কম ছিল না৷ মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা থেকে ক্রমশ স্পষ্ট, রাজ্য নির্বাচন কমিশন পরিচালিত সব ভোটই এবার হবে ব্যালটেই৷ মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাকে কিভাবে দেখছে মুরলূধর সেন লেনের নেতারা?

রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘ইভিএমে ভোট হয়েই তো উনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে দুবার৷ তখন আপত্তি ছিল না৷ ভোট হারতেই ব্যালট ফেরানোর দাবি৷’’ ব্যালটে ভোটের কথা বলতে গিয়ে সামসদ দিলীপ তুলে ধরেন গত বছর রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রসঙ্গ৷ তাঁর কথায়, ‘‘পঞ্চায়েত ভোট তো ব্যালটেই হয়েছিল৷ তাতে তৃণমূল জিতবে বলে আগে থেকে ভেবে নিয়েছিলে৷ কিন্তু, উনিতো ভোটটাই করতে দিলেন না৷ সংগঠনের প্রতি বিশ্বাস না থাকলেই ওইরকম করে ভোট আটকায়৷’’

বিজেপির কটাক্ষ, ‘‘মানুষের আস্থা নেই তৃণমূলে৷ সেটা মুখ্যমন্ত্রী ভালোই বুঝেছেন৷ তাই হেরে যাবে জেনে আগেভাগেই সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন৷’’ গেরুয়া দলের নেতৃত্বের দাবি ব্যালটের বিরোধী তারা নন৷ যাতেই ভোট হবে তাতেই লড়াইয়ে রাজি বিজেপি৷ তবে প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ থাকে৷

মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের ব্যালট ঘোষণা প্রসঙ্গে বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বামেরাই প্রথম ব্যালটের দাবি করেছিল৷ সেই দাবি থেকেই ভিভিপ্যাটের প্রয়োগ৷ তখন কেন তৃণমূল নেতারা আওয়াজ তোলেননি? সবটাই লোক দেখানো৷’’ লোকসভার কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘‘কংগ্রেসের জন্যই তো আজ এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন৷ আগামী দিনে ডুবছে দেখেই মায়া কান্না মমতার৷’’