স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বেসরকারি হাসপাতালের বাড়বাড়ন্ত থামাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গত ৩ মার্চ ‘ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্টের’ সংশোধনী পাশ করিয়েছিল বিধানসভায়৷ ইতিমধ্যে সেই বিলে সই করেছেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি৷ এবার বিলের সংশোধনী অনুযায়ী স্বাস্থ্যনিয়ন্তা কমিশন গঠন করল রাজ্য৷ শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে কমিশনের সদস্যদের নাম ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

আরও পড়ুন: অ্যাপোলোর প্রাক্তন অধিকর্তা রূপালি বসুকে থানায় হাজিরার নির্দেশ

এদিন মমতা জানান, কমিশনের দায়িত্বে থাকবেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অসীম কুমার রায়৷ আগামী ছ’মাস পর অবসর নেবেন বিচারপতি রায়৷ তারপরেই কমিশনের কাজ শুরু করতে তাঁকে আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ তবে আপাতত কমিশনের কাজ চালাবেন ভাইস চেয়ারম্যান অনিল বর্মা৷ পরে যদি বিচারপতি অসীম কুমার রায় কমিশনের দায়িত্ব নিতে না চান তাহলে পাকাপাকিভাবে অনিল বর্মাই পরবর্তীকালে সেই দায়িত্ব সামলাবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

এদিকে কমিশনের ১১ সদস্যের মধ্যে প্রশাসনিক কাজের দেখভাল করার জন্য আইপিএস ব়্যাংকের দুই পুলিশ আধিকারিককেও রাখা হয়েছে৷ এরা হলেন অনুজ শর্মা ও প্রবীণ ত্রিপাঠি৷ এছাড়াও বেশ কয়েকজন চিকিৎসক, ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের প্রতিনিধি ও নার্সের এক প্রতিনিধিও৷ চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায়, চিকিৎসক মাখনলাল সাহা, চিকিৎসক মধুসূদন বন্দ্যোপাধ্যায় ও চিকিৎসক গোপালকৃষ্ণ ঢালির মতো চিকিৎসকেরা থাকছেন এই কমিশনে৷ অন্যদিকে স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্বে থাকা আইএস অফিসার সংঘমিত্রা ঘোষকেও রাখা হয়েছে এই কমিশনে৷

আরও পড়ুন: অ্যাপোলোর ‘গাফিলতির’ অভিযোগ হাতে পেয়ে চরম ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী

এদিকে ক্রেতাসুরক্ষা দফতরের প্রতিনিধি ও নার্সের এক প্রতিনিধিকেও রাখা হয়েছে কমিশনে৷ মাধবী দাসকে রাখা হয়েছে কমিশনে৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কমিশন যাতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে তার জন্য ১১ সদস্যের দলে কোনও রাজনৈতিক প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি৷ পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, কমিশন যাতে খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করতে পারে তারজন্য জরুরী ভিত্তিতে একটি অফিসও দেওয়া হয়েছে৷ তবে সাধারণ মানুষ কি করে কমিশনের সুবিধা পাবেন তা আগামী সাতদিনের মধ্যে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী৷

এদিকে ফের একবার বেসরকারি হাসপাতালের উদ্দেশে বার্তা দেন মমতা৷ তিনি বলেন, চিকিৎসা কোনও প্রোমটিংয়ের ব্যবসা না৷ রোগীদের যেন ঘটি-বাটি বিক্রি করে হাসপাতালের বিল মেটাতে না হয়, সেই বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এদিকে নতুন বিল গঠন হওয়ার পরেই বহু বেসরকারি হাসপাতাল রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে জানা যায়৷ এদিন সেই বিষয়ে বার্তা দেন মমতা৷ তৃণমূল নেত্রী বলেন, রাজ্য দু’হাজারের বেশি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে৷ কারও সঙ্গে কোনও সমস্যা হয়নি৷ যা সমস্যা হয়েছে তা কেবল কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে৷ ইতিমধ্যে সমস্যা মেটানোর জন্য অ্যাপোলো কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে বৈঠকের জন্য সময় চেয়েছেন বলেও জানান তিনি৷