ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: একদিকে লোকসভা নির্বাচনে আশানুরুপ ফলাফল না হওয়া, অন্যদিকে রাজ্যে জয় শ্রীরাম ধ্বনি নিয়ে পরিবেশ অশান্ত, আর এরইমাঝে এবার সন্দেশখালির ঘটনায় পরিস্থিতি আরও কয়েকগুণ উত্তপ্ত হয়ে উঠল শনিবার৷ আর এসবকিছুতেই বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের তোপের মুখে বারবার পড়েছে রাজ্য সরকার৷ সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা তোপ দাগলেন বিজেপি শিবিরের দিকে৷

এই সাংবাদি বৈঠক থেকে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে৷ এই গুজব ছড়িয়ে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে বিজেপি৷ রাজ্যে এই গুন্ডামি বরদাস্ত করা হবে না৷ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই এইসব রুখতে হবে৷ রাজ্য সরকারকে ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ তাঁর মতে, কয়েকজন ওসি, এসআই ঠিক করে কাজ করছে না৷ দার্জিলিংকে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, কাউন্সিলরদের নেপালে নিয়ে গেল কে? পুলিশের কাছে শুনেছি ওদের নেপালে হাউজ অ্যারেস্ট করে রাখা হয়েছিল, দিল্লি থেকে ফোন করে কেন ডিরেক্ট তাদের দিল্লিতে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলা হল? কোনও ষড়যন্ত্রের কাছে আমরা মাথা নত করব না৷’

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ২ বছর পরেই বিধানসভার ভোট৷ প্রতি কেন্দ্রে টাকা ঢালছে বিজেপি৷ ২৭ হাজার কোটি টাকা খরচ৷ এক একটা কেন্দ্রে ৪৫কোটি টাকা খরচ৷ এত টাকার উৎস কী, সেই প্রশ্নও এদিন ছুঁড়ে দেন তিনি৷

উল্লেখ্য, শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন এই ১৭ মোর্চা কাউন্সিলর, আর সেই সঙ্গে মুকুল রায় জানান, দার্জিলিংয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি৷ শুধু তাই নয় তিনি এও বলেন, ২-৪ দিনের মধ্যেই কৈলাস বিজয়বর্গীয়র নেতৃত্বে একটি বড় প্রদর্শন হবে, যেখান থেকে সরাসরি বার্তা দেওয়া হবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে৷

বদলের লক্ষ্যে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি শিবিরে যোগ দেন বিধায়ক-সাংসদ থেকে কর্মী- সমর্থকেরা৷ শুক্রবার বর্ধমানের কার্জন গেট চত্বরে বিজেপির দলীয় সভায় রায়না, খন্ডঘোষ ও বর্ধমান শহরের প্রায় তিন হাজার পুরুষ ও মহিলাকে বিজেপিতে যোগদান করিয়ে এই বিষয়ে আন্দোলনের ডাক দিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী। এদিন বিকালে বর্ধমানের কার্জন গেটে বিজেপির দলীয় সভায় যোগদানকারীদের হাতে বিজেপির দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়।

শনিবার যেখানে দার্জিলিং পুরসভা বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার দাবি জানায়, সেদিন সন্ধ্যায় সন্দেশখালি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তৃণমূল-বিজেপি কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি-মারপিটকে কেন্দ্র করে৷ দলীয় পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে বচসা হাতাহাতিতে পৌঁছে যা৷ তৃণমূলের একজন এবং বিজেপির দুজন প্রাণ হারান বলে দাবি করা হয়৷ আবার কেউ কেউ জাবি করেন ৪ বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে৷ আর সোমবার এই সংখ্যা নিয়েই বিজেপিকে তোপ দাগেন মমতা৷ তিনি সাফ জানান, ‘প্রাণ হারিয়েছেন বিজেপির ২ কর্মী, কিন্তু ৪ জনের মৃত্যুর খবর বলে কেন গুজব ছড়ানো হচ্ছে৷ বিজেপি গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করছে, যা তৃণমূল করতে দেবে না৷ প্রয়োজনে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে৷’