কুয়ালালামপুর: শুধু ভারতের রাজধানীতেই নয়, ধর্মীয় জমায়েত থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর ঘটনা মালয়েশিয়াতেও হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানাচ্ছে, এখানেও সেই ধর্মীয় সংগঠন তাবলিগি জামাত অভিযুক্ত। মালয়েশিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় মুসলিম জন সংখ্যার দেশ। সেখানে ফেব্রুয়ারি মাসের ২৭ তারিখ থেকে মার্চের এক তারিখ পর্যন্ত চার দিনব্যাপী তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়েছিল।

সংবাদ সংস্থা এএফপিকে এমন তথ্য জানিয়েছে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রক। মালয়েশিয়া সরকারের দাবি, তাবলিগি জামাতের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয় সেলানগরের শ্রী পেটালিং মসজিদে। এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন কম করেও ১৬০০০ জন। তারপরেই দেশে করোনা সংক্রমণ ছড়ায়। এদিকে ওয়ার্ল্ডোমিটার জানাচ্ছে, মালয়েশিয়ায় ২ হাজারের বেশি করোনাভাইরাস সংক্রামিত। ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তাবলিগি জামাত সংগঠনের জমায়েতের পরেই এই অবস্থা দাঁড়িয়েছে। মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানাচ্ছে, তাবলিগি জামাতের সেই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, ব্রুনেই, ফিলিপাইন্স, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড,পাকিস্তান সহ বিভিন্ন দেশের নাদরিকরা এসেছিলেন। তেমনই ছিলেন মালয়েশীয়রাও। সেই জমায়েতের পর পরই মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কয়েকজনের দেহে করোনাভাইরাস ছড়ায়।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত দেশজুড়ে ধর্মীয় জমায়েত নিষিদ্ধ করে মালয়েশিয়া সরকার। সেই জমায়েতের পর করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর সংবাদ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হন। প্রশ্ন উঠছে, এটা জেনেও ভারত সরকার কেন দিল্লিতে তাবলিগি জমায়েতের অনুমোদন দিয়েছিল।

ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছে ভারতে। তাবলিগি জামাতের তরফে জানানো হয়েছে, তাদের জমায়েত ভারতে লকডাউন শুরুর আগেই শেষ হয়। করোনা সংক্রমণের সঙ্গে তাদের সংগঠনের নাম জড়িয়ে মিথ্যাচার চলছে। দিল্লির নিদামুদ্দিনে তাবলিগি জমায়েতের পর থেকেই তাতে অংশ নেওয়া শতাধিক করোনা আক্রান্ত। মৃত কয়েকজন।