মালদহ: করোনা সংক্রমণ নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করেন। জেলার চাঁচোলের নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, করোনাকে নতুন করে মোদী নিয়ে এসেছে। তাই মোদী মেড ডিজাস্টার করোনা। আর এখন নিজের দায় এড়িয়ে মানুষকে উনি বলছেন তোমরা সামলাও। তাহলে আমি বলি বাইরে থেকে রাজ্যে এত লোক নিয়ে আসছেন কেন। আপনারাই সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য দায়ী।

মালদহের চাঁচোল ও হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী যথাক্রমে নীহার রঞ্জন ঘোষ এবং তাজমুল হোসেনের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচার করেন মুখ্যমন্ত্রী। হরিশ্চন্দ্রপুরের তুলসিহাটা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি চত্ত্বরে বুধবার ওই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভাস্থল হরিশ্চন্দ্রপুর থানার মধ্যে হলেও তা অবশ্য চাঁচল বিধানসভার মধ্যে পড়ে। এদিনের সভায় ছিল উপচে পড়া ভিড় ।

নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী বলেন, চাঁচলের তৃণমূল প্রার্থী নীহাররঞ্জন ঘোষকে জেতান। চাঁচলে পুরসভা হবে। নীহার ঘোষ ইংরেজবাজার পুরসভা চালিয়েছেন। পুরমন্ত্রী কিছুদিন আগে মালদার চাঁচলে নির্বাচনী প্রচারে এসে চাঁচল পুরসভা নিয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন। চাঁচল পুরসভা চালু নিয়ে রাজ্যপালের অনুমতি মিলেছে বলেও দাবি করেছিলেন। এবার নির্বাচনী প্রচারে এসে সেই পুরসভা প্রসঙ্গ উঠে আসলো মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে।

জেলায় তৃণমূল আগে খাতা না খোলায় এদিন মুখ্যমন্ত্রীর গলায় ছিল অভিমানের সুর। তৃণমূল জিতলে মালদহকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ভিড়ে ঠাসা ওই সভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মালদা আমের জেলা। আম বিদেশে রফতানি হয়। তার আগে আম ভালো করে ধুতে হয়। সেজন্য আমরা এখানে হট প্লান্ট তৈরি করেছি। আম, ড্রাগন ফলের জন্য আরও নতুন কিছু প্রকল্পও করা হবে! এখানে চাঁচল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল আমরা তৈরি করেছি। ৮১ নম্বর জাতীয় সড়কের সংয়োগকারী প্রচুর রাস্তা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। এখানে পরিযায়ী অনেক শ্রমিক ভিন্ রাজ্যে গিয়ে মারা গিয়েছেন। তাদের আমরা সবরকম সাহায্য করেছি। কিন্তু এই জেলার জন্য এতকিছু করার পরেও তৃণমূল থেকে মানুষ মুখে ফিরিয়ে থাকায় অভিমান ঝরে পড়তে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতায়।

এদিনের নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, গতবারেও আপনারা তৃণমূলকে জেতাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরেও আমাদের ভোট দেননি। বারবার আপনারা কংগ্রেস, সিপিএমকে জিতিয়ে দিয়েছেন। এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন একবার তো তৃণমূলকে জেতান। মালদাকে আমি নতুন করে ঢেলে সাজাবো। আপনারা পুরনো মালদা চিনতেই পারবেন না। কিন্তু তৃণমূল জয় না পেলে কাজ হবে কি করে।

জেলায় ভাঙন রোধের কাজ নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করেন মমতা। তিনি বলেন, এখানে ভাঙনরোধের সমস্যা রয়েছে। কেন্দ্রকে বারবার বলা হলেও টারা টাকা দিচ্ছে না। কেন্দ্রকে নিশানা করে তিনি বলেন, ওরা গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। হাজার টাকায় গ্যাস কিনতে হচ্ছে। আমি বিনে পয়সায় চাল দিচ্ছি। হাজার টাকার গ্যাসে বিনে পয়সার চাল ফুটিয়ে খেতে হচ্ছে। তাই বিজেপিকেই এবার আপনারা ফুটিয়ে দিন।

এদিন করোনা প্রসঙ্গ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি মাক্স স্যানিটাইজার ব্যবহার করার জন্য মানুষকে অনুরোধ করেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.