মালদহ: টোটোতে বিস্ফোরক মজুত না থাকলে এত বড় বিস্ফোরণ ঘটতো না, এমনকি এরকমভাবে ছিন্নভিন্ন হতো না চালকের দেহ, এরকমই দাবি স্থানীয় বাসিন্দা থেকে রাজনৈতিক মহলের। তবে শনিবার মালদহে টোটো বিস্ফোরণকাণ্ডে সেন্ট্রাল ফরেনসিকের একটি দল আসছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

বুধবার বিকেলে মালদহ শহরের ঘোড়াপীরের রাজ্য সড়কে বিস্ফোরণের ঘটনার পর পুরো এলাকাটি ঘিরে দিয়েছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। তদন্ত শুরু করেছে সিআইডির কর্তারাও। যদিও তদন্তকারী পুলিশ কর্তাদের দাবি টোটোর ব্যাটারি ফেটে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। কিন্তু পুলিশের এই দাবি মানতে চাইছেন না সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা থেকে মালদহের বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা।

গোয়েন্দা দফতর এবং পুলিশি তদন্তের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, টোটোর চালক যে আসনে বসে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, মূলত সেইখানে বিস্ফোরণ ঘটেছে। যার কারণে, ওই টোটো চালকের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে রাস্তায় ছিটিয়ে পড়ে। এমনকি টোটোতে থাকা প্লাইবোর্ডের কিছু অংশ অন্তত ৩০ ফুট উপরে উঠে যায় ।

বিস্ফোরণের সময় রাস্তার ধারের ২০ ফিট উঁচু একটি টালির চালে ওই টোটো চালকের মুন্ডু গিয়ে পড়ে। এটিও বারবার পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্তাদের ভাবিয়ে তুলেছ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত টোটো চালকের নাম ইসমাইল সেখ (৩০)। তার বাড়ি কালিয়াচক থানার সুজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্রহ্মোত্তর গ্রামে।

প্রতি সপ্তাহে একদিন মালদহ শহরের বাগবাড়ি এলাকা একটি কারখানা থেকে প্লাইউডের কিছু সরঞ্জাম নিয়ে সুজাপুরের আগে মধুঘাট এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে সরবরাহ করতো ওই টোটো চালক। বুধবার বিকালে একইভাবে কাঠের ওই সব সরঞ্জাম নিয়েই টোটো চালিয়ে ঘোড়াপীর এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন চালক।

ওই এলাকার রাজ্য সড়কে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। ধোঁয়ায় ভরে যায় গোটা এলাকা । এরপরই ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। এদিকে গোয়েন্দা কর্তদের ধারণা, টোটো গাড়ির পিছনে মূলত ব্যাটারি থাকে। কিন্তু বিস্ফোরণে সামনের অংশের একদম ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে। এই সামনের অংশের আসনেই টোটো চালক বসেই গাড়ি চালায়। ব্যাটারি পিছনে বিস্ফোরণ হলে সামনের অংশে এত বড় ক্ষতি হবে তা তা নিয়ে অবশ্য পরিষ্কার করে কিছু বুঝে উঠতে পারে নি তদন্তকারী পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্তারা।

জেলা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, টোটো চালকের সামনের সিটে এমন কিছু রাসায়নিক অথবা বিস্ফোরক পদার্থ ছিল যা থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটেছে। যদিও ফরেনসিক দল না আসা পর্যন্ত এখনো পরিষ্কার করে পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্তারা কিছু জানাতে জানাতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। এদিকে টোটো বিস্ফোরণের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে ওই এলাকায় পরিদর্শনে যান উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ।

পরে ওই এলাকায় যান ইংরেজবাজারের তৃণমূল দলের বিধায়ক নিহার ঘোষ। ঘোড়াপীর এলাকায় বিস্ফোরণ কান্ড নিয়ে এখন রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, যেভাবে বিস্ফোরণটি হয়েছে তা হালকা ভাবে দেখা উচিত নয় । ব্যাটারি থেকে বিস্ফোরণ বলে দায় এড়াবার চেষ্টা করছে পুলিশ ।

কিন্তু আমাদের ধারণা বড় ধরনের কোনো রহস্য এই বিস্ফোরণকাণ্ডে পিছনে লুকিয়ে রয়েছে। এই ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু । তার অভিযোগ এরাজ্যে বোমা শিল্পের আমদানি করেছে তৃণমূল সরকার। যার দুর্ভোগে সাধারণ মানুষকে ভুগতে হচ্ছে।

অন্যদিকে তৃণমূল বিধায়ক নিহার ঘোষ বলেন , পুলিশ পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে । অথচ বিজেপি এই দুর্ঘটনা নিয়ে রাজনীতির ময়দানে নেমেছে। বিজেপি সাংসদ কবে থেকে বোমা বিশেষজ্ঞ হয়ে গেলেন , তা বলতে পারব না। পুলিশ যেখানে বলছে টোটোতে ব্যাটারি বিস্ফোরণ ঘটেছে। সেখানে উনি কি করে জোর গলায় বলে দিলেন বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে । আসলে গোটা ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি সাংসদ । পুলিশ সঠিক কাজ করছে।

পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, টোটো বিস্ফোরণকাণ্ডে ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে ব্যাটারি থেকে এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে। তবে সেন্ট্রাল ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে । তারা আসছেন। তারা এই ঘটনার তদন্ত করার পরই গোটা ঘটনাটি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ