মালদহ:  কনভেনার বদল নিয়ে প্রকাশ্যে এল তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল। আর এর জেরে কোতুয়ালী ভবনে মৌসমকে ঘিরে বিক্ষোভ করে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতির অনুগামীরা। ঘটনাটি মালদহের হবিবপুর থানার বামগোলা এলাকায়। যদিও করোনা ভাইরাস নিয়ে গ্রামবাসীদের সচেতন করতে কনেভেনার তৈরী করা হয়েছে বলে দাবি ওই এলাকার দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষ্ণেন্দু নারায়ান চৌধুরী।

হঠাৎ করে কৃষেন্দু ঘনিষ্টকে এই দ্বায়িত্ব দেওয়াতে এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি। স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অমল কিস্কুকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। তার জায়গায় বসানো হয়েছে কৃষ্ণেন্দু ঘনিষ্ট ফাইজুদ্দিনকে। যদিও অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরীর।

জানা গিয়েছে, মালদহ জেলায় রয়েছে ১২বিধানসভা কেন্দ্র। বিগতে ভোটে জেলা থেকে বিধানসভা ভোটে ভরা ঢুবি হয় তৃণমূল কংগ্রেসের। এরপর ওই এলাকাটি আদিবাসী অধ্যুষিত হওয়াতে ব্লকের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয় আদিবাসী নেতা অমল কিস্কুকে। যদিও পঞ্চায়েত ভোটেও খাতা খুলতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস ওই এলাকায়। তা স্বত্বেও তৃণমূল সুপ্রিমও ওই পদে বহাল রাখেন অমল কিস্কুকে।

সম্প্রতি মালদহ সফরে এসে বামনগোলা সহ বেশ কয়েকটি এলাকার দেখভালের দ্বায়িত্ব দেন প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরীকে। এরপর শুক্রবার বামনগোলা এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে যান। সেখানে করোনাভাইরাস সচেতনতা নিয়ে আলোচনা সভায় অমল কিস্কুকে সরিয়ে দিয়ে কনভেনার করা হয় ফাইজুল শেখ। আর এরপরই এদিন অমল কিস্কু অনুগামীরা কোতোয়ালি ভবন ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে।

এনিয়ে অমল কিস্কু অনুগামীরা শনিবার অভিযোগ জানাতে দলীয় কার্যালয় আসে। কিন্তু সেখানে জেলা সভানেত্রী মৌসুম নূরকে না পেয়ে কার্যালয় বন্ধ থাকায় তারা সোজা মৌসম নুরের বাসভবন মালদহের কোতোয়ালি ভবনে চলে যায়। শুরু হয় কোতোয়ালি ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ। অমল কিস্কুর অভিযোগ, একজন থাকতে কি করে কৃষ্ণেন্দুবাবু ব্লকের কনভেনার করেছে অন্য এক ব্যক্তিকে।

যদিও কৃষ্ণেন্দুবাবু সমস্ত ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এখন করোনা মহামারি আতঙ্ক চলছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও দলীয় কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। প্রত্যেক ব্লকের কর্মীদের করোনা মোকাবিলা এবং সচেতনতা নিয়ে প্রচার করার জন্য বলা হয়েছে। গোটা ঘটনা নিয়ে মৌসম নূর বলেন,জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কাউকে কোন কনভেনার করা হয়নি বা কোন সভাপতিও বদল করা হয়নি। কোথাও পরিবর্তন করতে গেলে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর সঙ্গে আলোচনা করে করা হবে।

গত কয়েকদিন আগেই মালদহে এক কর্মিসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জেলার গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে কড়া বার্তা দেন। প্রকাশ্য সভাতেই নাম করে ঝগড়া বন্ধের নির্দেশ দেন। এই পরিস্থিতিতে ফের একবার প্রকাশ্যে আসল গোষ্ঠী কোন্দল।