স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: কোনও রকম অনুমতি ছাড়াই বাড়ির জায়গা দখল নিয়ে চলছে সরকারি রাস্তা তৈরির কাজ। প্রতিবাদ জানাতে গেলে মিলছে ঠিকাদারি সংস্থার হুমকি। ফলে বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হল মালদহের একটি পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে, হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের হলদিবাড়ি গ্রামে। যদিও এব্যাপারে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লক প্রশাসনের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জানা গিয়েছে, জমি দখলের বিষয়টি চিঠি লিখে অভিযোগ জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। ওই পরিবারের অভিযোগ, কোনও রকম আগাম নোটিশ ছাড়াই তাদের চারকাঠা জমি দখল করে সরকারি রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এব্যাপারে প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত লোকেরা হুমকি দিচ্ছে। জেলা প্রশাসনকে জানানোর পাশাপাশি, পুরো বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে আনতেই চিঠি লিখে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, হলদিবাড়ি থেকে ইশাদপুর পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার রাস্তাটি গ্রামীণ সড়ক যোজনা প্রকল্পে তৈরি করা হচ্ছে। রাস্তাটি হলদিবাড়ি গ্রামের ভেতর দিয়ে গিয়ে সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ওপর দিয়ে ইসাদপুরের দিকে যাচ্ছে। হলদিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা কার্তিক দাসের অভিযোগ, এই রাস্তা নির্মাণের জন্য তাঁর চারকাঠা জমি নিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ওই জমির ওপর মাটি ফেলা শুরু হয়েছে। এব্যাপারে আগাম কোনও সরকারি নির্দেশিকা তাদের জানানো হয়নি। এমনকি পাননি কোনও ক্ষতিপূরণও। বরঞ্চ নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে নেওয়ার প্রতিবাদ করতে গেলে ঠিকাদারের লোকজন তাদের ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

কার্তিক দাস এদিন আরও অভিযোগ করে বলেন, তিনি একটি দোকানে দিনমজুর কাজ করে সংসার চালান। বাড়ি লাগোয়া এই চার কাঠা জমির উপর চাষবাস করে তার সংসার চলে। এর বিরুদ্ধে তিনি স্থানীয় ব্লক প্রশাসনকে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। অবশেষে নিজেদের জায়গা দখলের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে অভিযোগ জানিয়েছেন।

কার্তিক দাস বলেন, তাদের এই জমি অধিগ্রহণ করার জন্য যেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কারণ এই জমিটা তার রুটি-রুজি। জমি সমস্ত কাগজ তার কাছে রয়েছে। বংশানুক্রমে এই জমি ভোগ করে আসছেন। এই জমির উপর তার সংসার নির্ভর করে। প্রশাসন এর কোনও ব্যবস্থা না নিলে তাকে এবং তার পরিবারকে না খেয়ে মরতে হবে।

জমি দখল হয়ে যাওয়া ওই পরিবারটির বক্তব্য, জমিতে যখন মাটি ফেলা হচ্ছিল তখন তিনি ঠিকাদারের লোকজনকে মানা করেছিলেন। তারা শোনেনি। তাই এখন জমির পরিবর্তে তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক। জমি বা ক্ষতিপূরণ কিছুই না পেলে তারা সন্তান নিয়ে পথে বসবেন।

হলদিবাড়ির একাংশ বাসিন্দাদের বক্তব্য, রাস্তা তৈরির জন্য এই এলাকায় অনেকের জমি কোনও সরকারি নির্দেশিকা ছাড়াই নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কার্তিক দাসের জমিও আছে। পরিবারটি অত্যন্ত গরীব। প্রশাসনের উচিত তার জমির পরিবর্তে কার্তিকবাবুকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। নাহলে অসহায় পরিবারটি একদমই শেষ হয়ে যাবে।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য লতিচাঁদ দাস জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে গ্রামীণ সড়ক যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে একটি পাকা রাস্তা এখানে তৈরি হচ্ছে। রাস্তা নির্মাণ হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। কার্তিক দাসের জমির ব্যাপারে একটা গণ্ডগোল হয়েছে। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন। যদি কোনও সমস্যা তৈরি হয়ে থাকে তাহলে তিনি প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাবেন সমস্যাটি সমাধান করার জন্য।

স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্যা মমতাজ বেগম জানিয়েছেন, কোনও ব্যক্তির জমি জবর দখল করে রাস্তা নির্মাণ কখনই সমর্থন যোগ্য নয়। আগামী মাসে মুখ্যমন্ত্রী জেলা সফরে আসবেন সেখানে তিনি সমস্যাটি তুলে ধরবেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।