ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ : মঙ্গলবার ছিল সারাদেশ জুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের শোক উৎসব মহরম। সারা দেশ জুড়ে পালিত এই শোকের উৎসবে সেভাবে কোথাও কোনও দুর্ঘটনা বা হামলার খবর না থাকলেও মালদহ জেলার কালিয়াচকের একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনায় বেশ উত্তেজনা ছড়ায় জেলা জুড়ে।

পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার মহরম উপলক্ষ্যে মালদহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মহরমের তাজিয়া নিয়ে বের হয় মুসলিম ধর্মালম্বীরা। আর এই মিছিল চলার সময়েই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব শুরু করে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবক। থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দুরত্বে এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণত এই তাজিয়া মিছিল গুলিতে প্রশাসনের অনুমতি থাকলেও তলোয়ার, বল্লম এবং ডেগার সহ বেশ কিছু নির্দিষ্ট অস্ত্র নিয়েই এই মিছিল করা হয়। প্রশাসনের তরফ থেকে কোনও রকম আইনি বা বেআইনি অস্ত্র নিয়ে এই মিছিল করার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন : শিক্ষক থেকেও নেই, সরকারি স্কুলে এসে ফিরে যাচ্ছে পড়ুয়ারা

কালিয়াচক থানার থেকে বেশ কিছুটা দূরেই রয়েছে কালিয়াচক হাইস্কুল। সেখানেই তাজিয়া মিছিল চলাকালীন সময়ে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, অত্যাধুনিক পিস্তল হাতে নিয়ে মিছিলে হাঁটছে অজ্ঞাত এক যুবক। আর এই ঘটনার ভিডিও শেয়ার হতেই রীতিমত আতঙ্কে রয়েছেন কালিয়াচক গ্রামের বাসিন্দারা।

জানা গিয়েছে, কেনই বা ওই যুবক অস্ত্র হাতে নিয়ে মিছিলে এসেছিল কেন সে অস্ত্র উঁচিয়ে ছিল তা নিয়ে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে কোনও সদুত্তর মেলেনি। ওই যুবক যে, কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়েই এই মিছিলে এসেছিল তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা । শুধু তাই নয় এই ঘটনা ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে শুরু হয়েছে চাপানউতোর । জানা গিয়েছে, যাকে নিয়ে এত কাণ্ড তাকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হলেও, কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি৷

উত্তর মালদহের সাংসদ খগেন মুরমু এই ঘটনার প্রতিবাদে অভিযোগ করে জানিয়েছেন, শুধু মঙ্গলবারের ঘটনায় নয় এর আগেও একটি মিছিলে অস্ত্র হাতে দুষ্কৃতীদের থানা দাপাতে দেখা গিয়েছিল। সেই দিনের ঘটনায় পুলিশের সামনে দুষ্কৃতীরা থানা তছনছ করে দেয় । যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তিনি আরও জানান, ফের একই ঘটনা না ঘটে সেই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে আরও আগে থেকে তৎপর হওয়া উচিত ছিল।

আরও পড়ুন : ভারতীয় সেনার হাতে খতম শীর্ষ লস্কর-এ-তৈবা নেতা

তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ধর্মীয় মিছিলে কেউ যদি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে দাপায় তাতে মিছিলের পরিবেশে আতঙ্কেরই সৃষ্টি হয়। এমনকি এই ধরনের মিছিলে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করার ফলে যে কোনও সময় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সাংসদ।

যদিও গোটা বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী মৌসম নূর । তাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, তাঁদের কাছে এই বিষয়ে কোনও খবর নেই। অপরদিকে এই ঘটনায় জেলা প্রশাসনের থেকেও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে খবর জানা গিয়েছে৷