মালদহ: কার্পেট তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে এরাজ্যের নয় বাসিন্দার৷ মৃতরা সকলে মালদহের বাসিন্দা৷ উত্তরপ্রদেশের বারাণসির ভাদোহী এলাকার ওই কারখানায় তারা শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন৷ আরও ছয় বাসিন্দারও মিলছে না কোনও খোঁজ৷ বিস্ফোরণের পর খবরটি প্রথম মালদহ জেলা প্রশাসনের কাছে আসে৷ তাই জেলা প্রশাসনের অধিকারিকদের অনুমান মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে৷

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শ্রমিকরা মালদহ জেলার মানিকচক থানার এনায়েতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাজারপাড়া, মোমিনপাড়া, কামালপুর এবং মংলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। গত দেড় মাস আগে ওই গ্রামের ১৫ জন বারাণসির ওই কার্পেট তৈরি কারখানায় শ্রমিকের কাজের জন্য গিয়েছিলেন।

মালদহর জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, উত্তরপ্রদেশের বারাণসিতে কার্পেট তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণে মালদহর মানিকচকের নয় জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে এখনও পরিষ্কার করে কিছু জানা যায় নি। তবে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের একটি দল ইতিমধ্যে উত্তরপ্রদেশে যাওয়ার জন্য রওনা দিচ্ছে। পাশাপাশি মানিকচকের এনায়েতপুর গ্রামেও প্রশাসনের টিম পাঠানো হয়েছে। সঠিক খবর রাখতে ওই গ্রামে পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতরা হলেন আতাউর মোমিন (৩৭), আব্দুল গাফফার (৪০), মোহাম্মদ সুভান আনসারী (৩৮), ইসরাফিল মোমিন (৩৫), আবদুল কালাম মোমিন (৩২), আলমগির মোমিন (৩৩), আজাদ মোমিন (৩১), আব্দুল কাদির (৩৪) এবং মনসুর সেখ (৩৬)।

বিস্ফোরণে নয় শ্রমিকদের মৃত্যুর খবর শুনে এনায়েতপুর গ্রামে যান মানিকচকের বিডিও সুরজিৎ পণ্ডিত এবং আইসি কুণাল কান্তি দাস। পরে জেলা পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ গ্রামে গিয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এনায়েতপুর এলাকার মৃত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্য রাজিয়া বিবি, বাজিদ শেখ ,আমজাদ মোমিনদের বক্তব্য, শনিবার দুপুরে আমরা ফোনে জানতে পারি উত্তরপ্রদেশের কার্পেট কারখানায় বাড়ির ছেলেরা কাজ করতে গিয়েছিল। সেখানে বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। তাতেই আমরা তাদের হারিয়ে ফেলি৷ আমরা ভাবতেই পারছি না কিভাবে এত বড় ঘটনা ঘটে গেল। কীভাবেই বা বোমা বিস্ফোরণ হল। আর কারাই বা কারখানায় বোমা মারল। যদিও এই সম্পর্কে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কিছু জানানো হয়নি। এলাকায় পুলিশ ও প্রশাসনের টিম এসেছে। আমাদের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেছে।

গ্রামবাসীদের মতে, পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক উত্তরপ্রদেশ সরকার। পাশাপাশি মৃতদেহগুলি যাতে সুরক্ষিতভাবে মালদহয় নিয়ে আসা হয় তারও ব্যবস্থা করা হোক প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এছাড়াও মৃত পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ যেন দেওয়া হয় সেই দাবিও জেলা প্রশাসনের কাছে করা হয়েছে।

মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌড় চন্দ্র মণ্ডল বলেন, আমাদের কাছে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের মাধ্যমে খবর এসেছে ভাদোহী গ্রামে কার্পেট তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণে মানিকচকের নয় জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে বোমা বিস্ফোরণ না গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেই সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না। এনায়েতপুর গ্রামে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি তাদের সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।