মালদহ: সরস্বতী পূজা উপলক্ষে স্কুল প্রাঙ্গনে রাত জেগেছিল কিছু পড়ুয়ারা। গভীর রাতে স্কুলের মধ্যেই রহস্যজনক নুপুরের আওয়াজ ভেসে আসতেই তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। কয়েকজন সেই নুপুরের আওয়াজ মোবাইলে রেকর্ড করে। সেটি দ্রুত এলাকায় ছড়ায়, এতে অন্ধবিশ্বাসের আতঙ্ক আরও জাঁকিয়ে বসে। জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার কুশিদা হাইস্কুলের ঘটনা।

বিষয়টি জানতে পেরে মালদা জেলা বিজ্ঞান মঞ্চের প্রতিনিধি দল শুক্রবার ওই স্কুলে আসে। বিজ্ঞান মঞ্চের কর্তাদের বক্তব্য, ভূত বলে কিছু হয় না । এটা শুধু মাত্র কুসংস্কার। স্কুলে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য এই ধরনের কাজ করে থাকতে পারে কেউ বা কারা।

বেশকিছু স্কুল পড়ুয়াদের বক্তব্য, মধ‍্যরাতে বিদ‍্যালয়ে শোনা যাচ্ছে নুপুরের শব্দ৷ মনে হচ্ছে কেউ পায়ে নুপুর বেঁধে হেঁটে চলেছে স্কুলের বারান্দায়,চলছে নৃত‍্য। কখনও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের আর্তনাদের শব্দ, কখনও বা একসঙ্গে একাধিক পায়ের আওয়াজ। সরস্বতী পুজোয় এর সাক্ষী থেকেছে স্কুলের কয়েকজন পড়ুয়ারা এমনও দাবি করা হয়৷ যদিও স্কুলের গায়ে ভূতের তকমা মানতে নারাজ স্কুল কর্তৃপক্ষ৷ এসব ছাত্রদেরই মজা,মন্তব্য পঞ্চায়েতের উপপ্রধান৷

মালদহ জেলা বিজ্ঞান মঞ্চের সম্পাদক সুনীল দাস জানিয়েছেন, বিষয়টি শোনার পর ওই স্কুলে সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল কে পাঠানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে স্কুলের কেউ বা কারা বিষয়টি নিয়ে মজা করেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত যুক্ত থাকে তার বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় সে কথাও জানানো হয়েছে।

জানা গিয়েছে, সরস্বতীপুজো উপলক্ষে তিনদিন আগেই স্কুলেই রাত কাটিয়েছিল কয়েকজন ছাত্র। এরপর তারা জানায় গভীর রাতে স্কুলের বারান্দা দিয়ে কেউ নুপুর পায়ে হেঁটে যাচ্ছে৷ তারা সেই আওয়াজ ফোনে রেকর্ডিং করে পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়৷ তাদের দাবি, স্কুলে ভূত রয়েছে৷

স্কুলের অস্থায়ী কর্মী মকসুদ আলি জানিয়েছেন, গভীর রাতে এখানে মেয়েদের পায়ের নুপুরের আওয়াজ শোনা যায়৷ মনে হয় নুপুর বেঁধে মেয়েরা বারান্দা দিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে৷ কখনও ছেলের গলায় কান্নার আওয়াজও শোনা যায়৷ রাত ১২টার পর যে কেউ স্কুলে এলে তা শুনতে পাবে৷ সরস্বতী পুজোয় রাত কাটাতে এসে ছেলেরাও এর সাক্ষী থেকেছে৷ রাত আটটার পর স্কুলে ঢুকতে ভয় লাগে৷ বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষ জেনেছে৷

প্রধান শিক্ষক মহম্মদ হাসিব জানিয়েছেন, সরস্বতী পুজোয় স্কুলে রাত কাটাতে এসে ছাত্রদের কেউ হয়তো এনিয়ে মজা করেছে৷ তারা অন্য কোথাও এমন শব্দ রেকর্ডিং করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেছে৷ আমরা এর তদন্ত শুরু করেছি৷ এনিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই৷ এর আগে স্কুলে ভোটকর্মীরা রাত কাটিয়েছেন৷ বন্যার সময় প্রায় এক সপ্তাহ স্থানীয় মানুষজন স্কুলে ছিল৷ এছাড়াও রাতে স্কুলে অনেক অনুষ্ঠান হয়েছে৷ কখনও এসব নিয়ে কোনও কিছু শোনা যায় নি৷ আমরা পড়ুয়াদের আতঙ্ক কাটানোর চেষ্টা করছি৷ প্রয়োজনে বিজ্ঞান মঞ্চকেও কাজে লাগানো হবে৷

কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মহম্মদ নুর আজম বলেন, করোনা আবহে এই স্কুলেই কোয়ারান্টিন সেন্টার খোলা হয়েছিল৷ তখন তাঁরাও গভীর রাত পর্যন্ত স্কুলে থাকতেন৷ ভোটের সময় ভোটকর্মী, নিরাপত্তা রক্ষীরা স্কুলেই রাত কাটান৷ কেউ কখনও এসব দেখতে পান নি৷ গ্রামবাসীরাও এনিয়ে কখনও কোনও অভিযোগ করেন নি৷ সম্ভবত ছাত্ররা মজা করার জন্যই এসব করেছে৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।