মালদহ:  লকডাউনের সময় পরিবর্তনের ওপর জোর দিল জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। করোনা ভাইরাসের গোষ্ঠী সংক্রমণ এড়াতে মালদহ জেলার সমস্ত বাজার হাট এবং যাবতীয় দোকানপাট নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা।

রবিবার দুপুরে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের এই বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন ইংরেজবাজার পুরসভা কর্তৃপক্ষ এবং মালদহের চেম্বার অব কমার্স। মালদহ জেলার কালেক্টর ভবনের কনফারেন্স রুমে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র, পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া, মালদহ সদর মহকুমা শাসক সুরেশচন্দ্র রানো, ইংরেজবাজার পুরসভার প্রশাসক মন্ডলের চেয়ারপার্সন নীহার ঘোষ, প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য বাবলা সরকার, পুরাতন মালদহ পুরসভার প্রশাসক কার্তিক ঘোষ, মালদহ মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডু, যুগ্ম সম্পাদক উত্তম বসাক প্রমূখ।

জেলা প্রশাসনিক বৈঠক এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আগামিকাল সোমবার থেকে মালদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সকাল ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মাছ বাজার এবং সবজি বাজার। দুপুর ৩টার পর বন্ধ থাকবে সমস্ত বাজার। ফুটপাতে জুড়ে কোনরকম অস্থায়ী দোকান বসতে দেওয়া যাবে না। নির্দিষ্ট সময় দুপুর তিনটের মধ্যেই পোশাক থেকে শুরু করে অন্যান্য সামগ্রী দোকান বন্ধ করে দিতে হবে বলে কড়া নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বৈঠকের পর প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন, বাড়ির বাইরে বেরোলে ব্যবহার করতে হবে মাস্ক। এবং মানতে হবে সামাজিক দূরত্ব। সকাল ১০টার পর সবজি ও মাছ বাজার খোলা থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে পুলিশ। লকডাউনে কোন জায়গায় এক সঙ্গে ৭জনের বেশি আড্ডা মারতে পারবে না।

ফাইল ছবি

দুপুর তিনটার পর সমস্ত দোকান বন্ধের পাশাপাশি রাস্তায় কোনরকম জমায়েত করা যাবে না। জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র জানিয়েছেন , করোনা পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য রেখেই এবং গোষ্ঠী সংক্রমণ এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোথাও জমায়েত হতে দেওয়া যাবে না‌।

দুপুর তিনটের পর কোন দোকান খোলা রাখা যাবে না। সকাল দশটার মধ্যেই মাছ সবজির বাজার বন্ধ করে দিতে হবে। মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডু বলেন, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে নতুন করে জেলায় লকডাউনের সময়সীমা কিছু বদল করা হয়েছে । যে সিদ্ধান্ত প্রশাসন নিয়েছে, তাতে আমরা সহমত পোষণ করেছি । প্রশাসন যেভাবে নির্দেশ দিবে, সেভাবে ব্যবসায়ীরা সুষ্ঠুভাবে বেচাকেনা করবেন।

অন্যদিকে, সংক্রমণের হার ক্রমশ বেড়েই চলেছে গোটা দেশে। বাংলাও ব্যতিক্রম নয়। রাজ্যের একাধিক জায়গায় কনটেনমেন্ট জোনের সংখ্যা বাড়ছে। তাই লকডাউন আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল মমতা সরকার। ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে লকডাউন। মূলত কনটেনমেন্ট জোনে এই লকডাউন জারি থাকবে। এছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিয়মের শিথিলতাও থাকবে।

করোনা মোকাবিলায় সতর্কতামূলক সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে রাজ্য সরকার। সংক্রমণে লাগাম টানতে সচেতনতামূলক প্রচারও চালাচ্ছে রাজ্য।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ