সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , হাওড়া : হঠাৎ করেই যেন দর বেড়ে গিয়েছে ‘২৬শে পৌষ কালী মন্দিরে’র। সামনেই ভোট পরীক্ষা। মার্কশিটে ভালো নম্বর পেতে তাই হাওড়ার এই মন্দিরে ভিড় বাড়ছে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের। তৃণমূল প্রার্থী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু বিজেপির দেবজিত সরকার সবাই হত্যে দিচ্ছেন মাকড়দহের এই মায়ের থানে। ‘জয় কালী জয় কালী’ বলে প্রত্যেকেই পুজো দিতে যাচ্ছেন সেখানে, যদি একটু ফল ভালো হয়। মনে মনে হয়তো জোড়া পাঁঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছেন।

মন্দিরে, মসজিদ, দরগা বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে পুজো দিয়ে কিংবা আশীর্বাদ চেয়ে লোকসভা ভোটের প্রচার শুরু করছেন লোকসভা ভোটের প্রার্থীরা। পশ্চিমবঙ্গের তারাপীঠে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের। সেই তালিকায় এবার নাম লেখাচ্ছে হাওড়ার ‘২৬শে পৌষ কালী মন্দির’। রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট রাজনৈতিক প্রার্থীদের সমাগম হচ্ছে জাগ্রত কালী মায়ের আশীর্বাদ লাভের আশায়। মন্দিরের ‘কালীমাতা পূজা সমিতি’-র পক্ষে কুন্তল দাস জানিয়েছেন , “প্রায়ই এখন নেতা নেত্রীরা পুজো দিতে আসছেন। আসলে আমাদের মা খুবই জাগ্রত তাই প্রার্থীদের বিশ্বাস মায়ের কাছে পুজো দিলে হয়তো ভোট ব্যাঙ্কে তাঁদের মনের আশা আকাঙ্খা পূর্ণ হতে পারে।”

ভোট যুদ্ধ জমে উঠেছে, সেখানে ২৬ শে পৌষ কালী মায়ের আশীর্বাদ লাভের আশায় প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতা নেত্রীরা পুজো দিতে আসছেন। মূলত এই মন্দিরটি শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ছে। তাই এই কেন্দ্রের প্রার্থীরাই এখানে এসে হত্যে দিচ্ছেন। ২৮ মার্চ বিজেপি প্রার্থী দেবজিৎ সরকার ও গত ১২ এপ্রিল তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তার দলীয় সমর্থকদের নিয়ে কালী মায়ের মন্দিরে পূজা দিয়ে যান। এদিন যেমন পুজো দিয়ে গেলেন জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী দেবব্রত বিশ্বাস, হাওড়া জেলা আইএনটিউসি মহিলা সভাপতি শ্রাবন্তী সিংহ।

মাকড়দহের ‘২৬ শে পৌষ কালী মন্দির’ ঐতিহ্যবাহী এবং জাগ্রত কালী মন্দির নামেই পরিচিত। ২০১৯-এর ১০ জানুয়ারি, নতুন ভাবে তৈরি হয়ে সাধারণের জন্য মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়। সেখানে এখন ‘অসাধারণদের’ ভিড়। তবে প্রত্যেক দিন বহু সাধারন মানুষও আসেন এই মন্দিরে।

প্রত্যেক বছর ২৬ শে পৌষ ( ইং ১১ই জানুয়ারি) কালী মা এর প্রস্তর মূর্তি প্রতিষ্ঠা উৎসব পালন করা হয়। ওই দিন মায়ের প্রতিষ্ঠা পূজাসহ জনসাধারণের পূজা, নরনারায়ণ সেবা, অন্নকূট উৎসব ও বিশাল মেলা বসে। প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার লোক সমাগম হয় মন্দিরে। প্রত্যেকে অন্নকূট উৎসবে অংশ গ্রহন করেন। আয়োজন করা হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

হাওড়া থেকে যে কোনও ডোমজুড়গামী বাসে মাকড়দহ স্টপেজ। সেখান থেকে টোটোতে চড়ে মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যায় ‘২৬ শে পৌষ কালী মন্দিরে’। মন্দিরের দুপাশে রয়েছে শীবের মন্দির ও রামকৃষ্ণ সারদা মন্দির।