স্বাগত ঘোষ, কলকাতা: ফুটবলার হিসেবে ৭৫’র আইএফএ শিল্ডে মোহনবাগানকে পাঁচ গোলে হারানোর অন্যতম কারিগর তিনি। আবার কোচ হিসেবে মুকুটে রয়েছে আসিয়ান জয়ের মত পালক। কিন্তু সুভাষ ভৌমিক বরাবরের ঠোঁটকাটা, যাকে বলে স্পষ্টবাদী। তাইতো শতবর্ষে ইস্টবেঙ্গল দিবসের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে নির্দ্বিধায় জানিয়ে দিলেন, ‘মজিদ গ্রেট ফুটবলার তবে অল-টাইম গ্রেট নন।’

হ্যাঁ, যে অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শতবর্ষে সেরা বিদেশি ফুটবলারের সম্মান গ্রহণ করলেন ইরানিয়ান বাদশা মজিদ বাসকর, সেই অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়েই মজিদকে অল-টাইম গ্রেট সম্মান দেওয়াতে তীব্র আপত্তি জানালেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের এই প্রাক্তন ফুটবলার ও কোচ।

সালটা ১৯৭৯। ক্লাবের পরিবেশে খানিক বিরক্ত হয়েই ইস্টবেঙ্গল ছেড়েছিলেন সুভাষ। প্রদীপ বন্দোপাধ্যায় তাঁর স্ত্রীকে গিয়ে পরদিন থেকে মাঠে যাওয়ার কথা বললেও সুভাষকে তাঁর সিদ্ধান্তে টলাতে পারেনি কেউ। সুভাষ ছেড়ে যাওয়ার মরশুমেই ইস্টবেঙ্গলের ভাঙা হাটে আবির্ভাব ঘটেছিল ম্যাজিশিয়ন আবদুল মজিদ বাসকরের। যার পায়ের জাদুতে আজও সম্মোহিত কল্লোলিনী তিলোত্তমা। সেবার মজিদের খেলা প্রথম দেখে আক্ষেপ করেছিলেন সুভাষ নিজেও।

আরও পড়ুন: বদলে গিয়েছে শহর, বদলায়নি শুধু লাল-হলুদ রঙটা: মজিদ বাসকর

শতবর্ষে ইস্টবেঙ্গল দিবসের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে আসিয়ান জয়ী কোচ জানালেন, ‘আমি কোনও কিছুর জন্য আক্ষেপ করি না। কিন্তু ফেড কাপে হ্যালের বিপক্ষে সেবার মজিদের প্রথম বল ধরা দেখেই মনে হয়েছিল, ইশ এই ছেলেটার সঙ্গে কেন খেললাম না?’ পরক্ষণেই সুর বদলে সুভাষ ভৌমিক স্পষ্ট জানালেন একসঙ্গে না খেলার আক্ষেপ থাকলেও মজিদকে অল-টাইম গ্রেট মানতে পারছেন না তিনি। কারণ হিসেবে বিদেশি ফুটবলের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন ময়দানের ‘ভোম্বল’।

আরও পড়ুন: ইস্টবেঙ্গল দিবসে আত্মপ্রকাশ অরিজিতের কন্ঠে নয়া থিম সং

জানালেন ধারাবাহিকতা যে কোনও শিল্পের মূল উপাদান। জর্জ বেস্টের মত শৈল্পিক ফুটবলার যুক্তরাজ্যের মাটিতে আজ অবধি জন্মায়নি। কিন্তু তাঁকে ছাপিয়ে ববি চার্লটনকে বেশি মনে রেখেছে ফুটবলবিশ্ব। কারণটা ধারাবাহিকতা। সুভাষের কথায়, ঠিক তেমনই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে ‘বাদশা’ মজিদের স্থায়িত্ব মাত্র দেড় বছর। এই স্বল্প সময়ে কাউকে অল-টাইম গ্রেট হিসেবে কি করে চিহ্নিত করা যেতে পারে, প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ময়দানের ভোম্বল দা’র কথায়, ‘সবাই ফাটিয়ে দিচ্ছে মজিদ অল-টাইম গ্রেট কিন্তু আমি মেনে নিতে পারছি না।’