কলকাতা: রবিবার ভোররাতে কলকাতায় পা রেখে তাঁকে ঘিরে লাল-হলুদ সমর্থকদের আবেগ দেখে একপ্রকার চমকে উঠেছিলেন। সমর্থকদের ভালোবাসার অত্যাচার ঠেলে ‘বেতাজ’ বাদশা মজিদ বাসকর কোনক্রমে বিমানবন্দরের বাইরে বেরিয়ে সোজা পৌঁছে গিয়েছিলেন হোটেলে। এরপর সারাদিন বিশ্রামের পর বিকেলে একদা সতীর্থ বন্ধু জামশিদ নাসিরির সঙ্গে সিসিএফসি। সেখানে চুটিয়ে উপভোগ করেন বেঙ্গালুরু অনুর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে সিসিএফসি’র প্রস্তুতি ম্যাচ। চলে দেদার আড্ডাও।

কিন্তু দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশক বাদে কলকাতায় ফিরে মজিদ বাসকর তাঁর প্রাক্তন ক্লাবে প্রথমবার পা রাখলেন সোমবার বিকেলে। আগেই ইচ্ছেপ্রকাশ করেছিলেন প্রিয় ১২ নম্বর জার্সিটা গায়ে ক্লাব গ্রাউন্ডে বল পায়ে মাঠে নামার। কথামতোই এদিন বিকেলে মজিদ বাসকর পৌঁছে যান প্রাক্তন ক্লাবে। আশির দশকের বাদশা মজিদকে ইস্টবেঙ্গলের ক্লাবের পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হয় তাঁর পছন্দের ১২ নম্বর জার্সি। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই এদিন বিকেলে ইস্টবেঙ্গল মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন শ’য়ে শ’য়ে লাল-হলুদ সমর্থক। যাঁদের সিংহভাগ বল পায়ে তাঁর খেলা না দেখলেও পূর্বসূরীদের মুখে মজিদের কথা শুনে অজান্তেই ফ্যান হয়ে গিয়েছেন ইরানিয়ান বাদশার।

আরও পড়ুন: চেলসিকে চার গোল দিয়ে প্রিমিয়র লিগ অভিযান শুরু করল ম্যান ইউ

এমনই লাল-হলুদ সমর্থকদের এদিন প্রবল আর্তি ছিল একবার মজিদকে ছুঁয়ে দেখার। ফেন্সিংয়ের ধারে গিয়ে তরুণ প্রজন্মের সমর্থকদের সেই আবদারও পূরণ করলেন ‘বেতাজ’ বাদশা। এরপর বল পায়ে মজিদ মাঠে নামতেই শব্দব্রহ্মে ফেটে পড়ে লাল-হলুদ গ্যালারি। আশির দশকের গোড়ার দিকে বল পায়ে তাঁর জাদু দেখার সুযোগ হয়নি যাঁদের, স্বল্প সময়ে তাদের দুধের স্বাদ ঘোলে মেটান প্রাক্তন লাল-হলুদ কিংবদন্তি।

আরও পড়ুন: স্মৃতিচারণায় ‘আর্যভট্ট’-কে শ্রদ্ধা বীরুর

এখানেই শেষ নয়, মঙ্গলবার ক্লাবের জীবিত অধিনায়কদের নিয়ে ইস্টবেঙ্গল মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা একটি প্রদর্শনী ম্যাচের। সেখানে বল পায়ে ফের মাঠে নামবেন লাল-হলুদের প্রাক্তনী, ইরানের প্রাক্তন বিশ্বকাপার। এরপর বিকেলে শতবর্ষে ইস্টবেঙ্গল দিবসের অনুষ্ঠানে সম্মান জানানো হবে জীবিত অধিনায়কদের প্রত্যেককেই। সেখানে প্রাক্তন সতীর্থদের সঙ্গে মিলিত হয়ে স্মৃতির অতলে ডুব দেবেন বাদশা। হাজারো ভিড়ের মাঝেও বুধের অনুষ্ঠানের স্পটলাইট কিন্তু থাকবে মজিদ বাসকরের উপরেই।