কলকাতা: শতবর্ষে প্রাক্তন ফুটবলারদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল একশো বছরে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে খেলে যাওয়া সেরা বিদেশি ফুটবলারের নাম। নির্দ্বিধায় সিংহভাগ প্রাক্তন ফুটবলার একবাক্যে যার নাম উচ্চারণ করেছেন, তিনি মজিদ বাসকর। আশির দশকের গোড়ার দিকে লাল-হলুদ জার্সি গায়ে বিপক্ষ বক্সে তাঁর ক্ষীপ্রতা এখনও টাটকা ইস্টবেঙ্গল জনতার মনে। তাইতো মজিদ বাসকরকে তারা ডাকতেন ‘বাদশা মজিদ’ নামে।

আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি থেকে কলকাতা ময়দান। এরপর নয় মরশুম কলকাতায় কাটিয়ে চার দশক আগে ফিরে গিয়েছিলেন ইরানে। ইস্টবেঙ্গল জনতার হৃদয়ে চিরকালের জন্য ঠাঁই করে নিলেও আর কলকাতায় পা রাখেননি ইরানের জাতীয় দলের হয়ে ৮ ম্যাচ খেলা প্রাক্তন এই ফুটবলার। কিন্তু প্রিয় ক্লাবের তরফ থেকে শতবর্ষের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তারা। ১ অগাস্ট নেতাজি ইন্ডোরে সুদূর ইরান থেকে মজিদ বাসকরের একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করা হয় লাল-হলুদ অনুরাগীদের জন্য। যেখানে আগামী ১৩ অগাস্ট ইস্টবেঙ্গল দিবসের অনুষ্ঠানে থাকার বার্তা দেন মজিদ স্বয়ং।

সেই থেকেই অপেক্ষার প্রহর গোনা শুরু। আর রবিবার ভোররাতেই অবসান ঘটছে সেই অপেক্ষার। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় বাদে কলকাতায় পা রাখছেন মজিদ বাসকর। সূত্রের খবর, শনিবার সকালেই তেহরান থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন লাল-হলুদ জার্সি গায়ে ৭১ ম্যাচে ৬২ গোল করা মজিদ। তেহরান থেকে কাতার হয়ে রবিবার ভোররাতে শহরে পা রাখবেন ‘বাদশা’। ইতিমধ্যেই তাঁকে বিমানবন্দরে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ফ্যান ক্লাবগুলি। তবে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানানোর কোনও পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।

সোমবার ক্লাব তাঁবুতে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা তাঁর। লাল-হলুদ জার্সি গায়ে অতীতের একগুচ্ছ স্মৃতি আবেগ হয়ে মজিদের গলায় ঝড়ে পড়বে ওইদিন। দেখা হবে অভিন্ন হৃদয় বন্ধু জামশিদ নাশিরি সহ একদা সতীর্থদের সঙ্গে। হয়তো অপেক্ষার তর সইছে না মজিদেরও। এরপর ১৩ অগাস্ট নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে স্পটলাইট থাকবে তাঁর উপরেই।