কলকাতা: অসংযমী জীবনযাপন, একরাশ বিতর্ককে সঙ্গী করে তিন দশকেরও বেশি সময় আগে এমনই এক মাঝরাতে তিনি শহর ছেড়েছিলেন। মজিদ কলকাতা ছেড়েছিলেন, কিন্তু ফুটবল পাগল কলকাতা সমর্থকদের হৃদয়ে গেঁথে দিয়ে গিয়েছিলেন বল পায়ে তাঁর মায়াবী ফুটবলশৈলী। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও যে মায়াবী ফুটবলশৈলীতে এখনও বুঁদ ‘সিটি অফ জয়’।

কলকাতা ময়দানের সঙ্গে একসময় তাঁর এতটাই দূরত্ব তৈরি হয়েছিল যে, মজিদ বাসকর জীবিত আছেন কীনা সেটাই ছিল লাখ টাকার প্রশ্ন। তাই দীর্ঘ ৩২ বছর বাদে রবিবার ভোর ৩টে ৪০ মিনিট নাগাদ দমদম বিমানবন্দরের লাউঞ্জ দিয়ে ‘বেতাজ’ বাদশা যখন বেরিয়ে আসছেন, তখন বাইরে তাঁর জন্য অপেক্ষমান শ’য়ে শ’য়ে লাল-হলুদ সমর্থক। মাত্র দু’টি মরশুম খেলেছিলেন লাল-হলুদ জার্সি গায়ে। কিন্তু তাতে কী? ‘মজিদ’ শুধু নাম নয়, এত বছর ধরে আবেগ হয়ে রয়ে গিয়েছে লাল-হলুদ জনতার বুকের বাঁ-দিকটায়।

আরও পড়ুন: এবার শরীরের কথা একটু শোনো, রায়নাকে বার্তা রোডসের

সাদা টি-শার্ট আর ঘিয়ে রঙের ট্রাউজার পরে লাউঞ্জ দিয়ে বেরিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়তেই তরঙ্গ খেলে গেল দমদম বিমানবন্দরে। প্রাক্তন ক্লাবের শতবর্ষে ‘বেতাজ’ বাদশা মজিদ বাসকরের ফের কলকাতা আগমণ ঘিরে আবেগের মহাপ্রলয় দেখল ভোরের শহর। রাত ১২টা বাজতে না বাজতেই বিমানবন্দরে ভিড় জমিয়েছিলেন লাল-হলুদ সমর্থকরা। অবশেষে সাড়ে ৩ ঘন্টা পেরিয়ে গিয়ে ঘটল অপেক্ষার অবসান। আশির দশকের বাদশাকে বরণ করে নিতে বিমানবন্দরে পৌঁছতে পারেননি অনেকেই। তাদের কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন, ‘দূরের দিগন্তে প্রশ্ন হাজার/ মাটিতে পা তাই পড়ল রাজার…’

আরও পড়ুন: প্রিমিয়র লিগের শুরুতেই পাঁচ গোলে জয় ম্যান সিটির

প্রাথমিকভাবে পুলিশ যথেষ্ট তৎপর না থাকায় সমর্থকদের ভিড় সামলে বিমানবন্দরের বাইরে বেরোতে কিছুটা বেগ পেতে হয় বাদশাকে। ফের ভিতরে ঢুকে যান তিনি। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি এক পাঁচতারা হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। প্রিয় ১২ নম্বর জার্সিটা পরে সোমবার ক্লাবের মাঠে বল পায়ে নামার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন আশির দশকের ‘বেতাজ’ বাদশা। এরপর ১৩ অগাস্ট নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে একদা সতীর্থদের সঙ্গে মিলিত হবেন মজিদ।

সমর্থকরা আরও কয়েক দফায় তাঁকে নিয়ে আবেগের মহাপ্রলয় ঘটাবে নিশ্চিত। তবে দু’দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের মাঝে কয়েকশো বার পুরনো ক্লাব পুরনো শহরকে নিয়ে স্মৃতিমেদুর হয়ে পড়বেন বাদশা স্বয়ং। হয়তো চোখের কোনে চিকচিক করে উঠবে জলও।