স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: অবশেষে দুই মহিলার উপর বর্বরোচিত অত্যাচারের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অমল সরকারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হল পুলিশ। দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা সীমান্ত এলাকা থেকে পুলিশ বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেফতার করেছে। মূল অভিযুক্ত ধরা পড়লেও এখনও পর্যন্ত রতন সরকার ও উজ্জ্বল সরকার অধরাই রয়ে গিয়েছে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে যে, শীঘ্রই তাঁদেরও গ্রেফতার করা হবে। অমল সরকারের জামিনের আবেদন নাকচ করে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালত।

গত ৩১ জানুয়ারি গঙ্গারামপুর থানার নন্দনপুর এলাকায় রাস্তা তৈরির নামে, জমি দখলের চেষ্টায় বিজেপি সমর্থক দুই মহিলার পা বেঁধে অমানুষিক অত্যাচার চালানো হয়। যে ঘটনা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়ে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই রাজ্য জুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। বিষয়টি গিয়ে পৌঁছায় দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনেও। ঘটনার মূল অভিযুক্ত খোদ শাসক দলের স্থানীয় উপপ্রধান অমল সরকার ও তাঁর সাগরেদরা। কিছুটা হলেও ফাঁপরে পড়তে হয়েছিল শাসক দল তৃণমূল নেতৃত্বকে।

অত্যাচারের শিকার নির্যাতিতা দুই মহিলা থানায় মূল অভিযুক্ত সহ মোট ৫জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও করেন। তৃণমূল নেতৃত্ব উপপ্রধান অমল সরকারকে দল থেকে বহিস্কার করলেও পুলিশ অভিযুক্ত গোবিন্দ সরকার ও তপন শীলকে গ্রেফতার করলেও অমল সরকারকে এতদিন ধরতে পারছিল না। অবশেষে অমলকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পাড়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তিতে শাসক শিবিরের নেতারা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াংদেন ভুটিয়া এদিন জানিয়েছেন, গোপনসূত্রে খবর পেয়ে গঙ্গারামপুর-নালাগোলা রুটে একটি বাস থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি মারধর ও ভয় দেখানোর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় বাকি দুই অভিযুক্তকও শীঘ্রই ধরা পড়ে যাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে নির্যাতিতা স্মৃতিকণা দাস জানিয়েছেন যে, প্রশাসনের প্রতি তাঁর আস্থা রয়েছে। পুলিশ বাকিদেরও গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুক। যাতে এই ধরণের ঘটনা আর কোথাও না ঘটে।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV