প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাড়ির পরিচারিকাদের বিরুদ্ধে চুরি বা খুনের অভিযোগ বার বার উঠেছে৷ এবার পরিচারিকার বিরুদ্ধে মৃতদেহ পাচারের চেষ্টার অভিযোগ৷ ঘটনাটি ঘটেছে সল্টলেকের ই ই ব্লকে৷ পরিচারিকা এবং গাড়ির চালককে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ৷

অবসরপ্রাপ্ত কেএমডি এর কর্মী পৃথ্বীবরণ গাঙ্গুলি (৭৮)৷ সল্টলেকের ই ই ব্লকের বাসিন্দা৷ দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্য জনিত রোগে ভুগছিলেন৷ দেখাশুনার জন্য হুগলির বাসিন্দা জবা চক্রবর্তী নামে এক পরিচারিকা রাখেন তিনি৷ শনিবার রাতে বিষক্রিয়ায় পৃথ্বীবরণ বাবুর মৃত্যু হয়৷ এরপর তার দেহ চাদরে মুড়ে পাচার করার চেষ্টা করে পরিচারিকা জবা চক্রবর্তী এমনই অভিযোগ উঠেছে৷

বাড়ির সামনে শববাহী গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের৷ তারা বাড়ির ভিতরে গিয়ে দেখেন পৃথ্বীবরণ গাঙ্গুলির মৃত্যু হয়েছে৷ সেসময় ঘরে ছিল পরিচারিকা জবা চক্রবর্তী এবং গাড়ির চালক রণজিৎ সাঁতরা৷ অভিযোগ, অবসরপ্রাপ্ত কেএমডি-র কর্মীর আত্মীয়দের খবর না দিয়ে পরিচারিকা ও গাড়ির চালক দেহ চাদরে মুড়ে পাচার করার চেষ্টা করছিল৷ স্থানীয় বাসিন্দারা তখন তাদেরকে আটকে রেখে মৃতের আত্মীয়দের খবর দেন৷ উত্তেজিত প্রতিবেশীরা চড়াও হয় ওই পরিচারিকার ওপর। খবর দেওয়া হয় পুলিশকেও৷

মৃত পৃথ্বীবরণ গাঙ্গুলির দাদা দিব্যেন্দু গাঙ্গুলির অভিযোগ,শনিবার বিকেল চারটে নাগাদ ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে৷ কিন্তু সল্টলেক অঞ্চলের কোনও চিকিৎসক মৃত্যুর শংসাপত্র দেননি৷ কাদাপাড়া অঞ্চলের এক চিকিৎসকের কাছ থেকে মৃত্যুর শংসাপত্র আনা হয়৷ এমনকি বাড়িতে কোনও আত্মীয়দের ঢুকতে দিত না পরিচারিকা৷ সম্পত্তি হাতানোর উদ্দেশ্যে পরিচারিকা জোর করে ওই বাড়িটিও লিখিয়ে নিয়ে থাকতে পারে৷ তার জন্যেই এই দেহ লোপাটের পরিকল্পনা করেছিল জবা৷

পরিচারিকার সাথে গাড়ি চালকের কোনও সম্পর্ক আছে কিনা এবং মৃতের সম্পত্তি পরিচারিকা লিখিয়ে নিয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখছে বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ।