নিবেদিতা দে, কলকাতা: বিরোধীদের ঘরে ছেলে ঢোকাতে গিয়েই কাল হল? আর তার আঁচেই সম্ভবত মুখ এবং কপাল পুড়ল তৃণমূল সংসদ সদস্য তাপসের পালের? কারণ, রাজনীতিতে নিশ্চিত করে কিছু বলা খুবই কঠিন৷ এ ওকে টপকে গিয়ে নাটকীয় বদল ঘটতেও বেশি সময় লাগে না৷ তবে তেমন কিছু না ঘটলে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রসের প্রার্থী হচ্ছেন করিমপুরের বিধায়ক মহুয়া মিত্র৷

তৃণমূল বিধায়ক মহুয়া মিত্র

এই কেন্দ্র থেকে কেন্দ্র থেকে মহুয়ার টিকিট একপ্রকার পাকা৷ যদিও তৃণমূলের অন্দরের খবর, কৃষ্ণনগরের দু’বারের সাংসদ তাপস পালের সারদা দুর্নীতিতে নাম জড়ানোয় এবার আর তাঁকে টিকিট দেবেন না তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ পাশাপাশি ছেলে ঢোকানো তাপসের বিতর্কিত মন্তব্যে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল শাসকদলকে৷ সম্ভবত, ‘দাদার কীর্তি’র জন্যই এবার সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্নবঙ্গ হতে চলেছে তাপসের৷

সারদাকাণ্ডের জেরে দীর্ঘদিন কারাবাসে ছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ তাপস পাল৷ সাংসদ থাকাকালীন তাঁর একাধিক অশালীন মন্তব্যে অস্বস্তি পড়েছিল দল৷ মমতা-ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, দাদার এহেন কীর্তিতে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যথেষ্ট বিরক্ত৷ এবারের লোকসভায় আর তাঁকে টিকিট দেবেন না বলে একপ্রকার নিশ্চিত করেই ফেলেছেন৷ শুধু তাই নয়, কারাবাসের পর তিনিও কার্যত দল থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়েছেন৷ দলের কোন মিটিং-মিছিলেও কৃষ্ণনগরের সাংসদকে সেভাবে দেখা যায় না৷

এবছর মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কালীপুজোতেও তাঁকে ঢুকতে যথেষ্ঠ বেগ পেতে হয়৷ তৃণমূল সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা তাপসকে ভিআইপি গেট দিয়ে ঢুকতে বাধা দেন৷ তাপসবাবু ফোনাফুনি করেও বিশেষ লাভ করতে পারেনি৷ পরে তাঁর স্ত্রী নন্দিনীর চেষ্টায় বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করার অনুমতি পান৷ তবে, কিছুক্ষণ থেকে কলকে না পেয়ে রাত-দুপুরে হরিশ মুখার্জী স্ট্রিট ছাড়তে হয়৷ মমতা ঘনিষ্ঠদের কথায়, কালীপুজোতে হাজির হয়ে দিদির কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টায় ছিলেন সাংসদ৷ কিন্তু তাদের এই চেষ্টা বিফল হয়৷

তৃণমূল বিধায়ক মহুয়া মিত্র

অন্যদিকে করিমপুরের বিধায়ক মহুয়া মৈত্রর ইদানিংকালে দলে গ্রহণযোগ্যতা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে৷ তিনি ভালো কাজ করছেন বলেই খবর তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব সূত্রে৷ দলনেত্রীও খুশি তাঁর কাজে৷ সূত্রের খবর, মহুয়াকে সংসদে ভবনে পাঠাতে চান দিদি৷ দলের হয়ে পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর৷ এছাড়াও এনআরসি ইস্যু থেকে অসমে জঙ্গি হামলার মত ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে থাকতে এই মহুয়াকেই রাজ্যের প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছিলেন দিদি৷

তাপস পালের পরিবর্তে মহুয়া মিত্রকে প্রার্থী করলে তৃণমূলের ভোটও বাড়বে বলেই মনে করছে জেলা নেতৃত্ব৷ নদিয়ায় একাধিক নেতার কথায়, একে তো সারদা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন তাপস পাল৷ তার উপর দীর্ঘদিন তাঁকে তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রে দেখা যায়নি৷ সেখানে জেলায় মহুয়ার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে৷ তাঁকে প্রার্থী করলে কৃষ্ণনগরের আসনটি নিশ্চিত চলে আসবে তৃণমূলের ঝুলিতে৷ তাই সবদিক দেখে শুনে দিদিও চাইছেন মহুয়াকে প্রার্থী করতে৷
সম্প্রতি রাজ্য মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনেন মুখ্যমন্ত্রী৷ চারজন নতুন মন্ত্রী শপথ নেন রাজভবনে৷

সেই সময়ও মহুয়ার নামটা শোনা গিয়েছিল তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বলে৷ কিন্তু, সে সম্ভাবনায় জল ঢালেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীই৷ মহুয়ার বদলে অন্য চারজন নতুন মুখ শপথ নেয় মমতার মন্ত্রিসভায়৷ রাজনৈতিক মহলের কাছে আরও স্পষ্ট হয়ে যায় লোকসভায় তাঁর পাকাপাকি টিকিটের বিষয়টি৷