মহিষাদল: করোনা আবহে একঘেয়েমি কাটাতে পুজোয় পর্যটকদের গন্তব্য হোক মহিষাদল রাজবাড়ির পর্যটনকেন্দ্র। কলকাতা থেকে ১২০ কিমি দূরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক মহকুমায় মহিষাদলে ৭০ একর জায়গা জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন রাজবাড়ী।সরকারি সহযোগিতায় হেরিটেজের মাধ্যমে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে মহিষাদল রাজবাড়ীর পর্যটন কেন্দ্র।

ইতিমধ্যে পুজোকে কেন্দ্র করে বুকিং প্রায় সব শেষ। এদিকে রাজ্য সরকার বাংলার পর্যটন কেন্দ্র গুলিকে নতুন করে সাজিয়ে তুলে মানুষকে আরও বেশী পর্যটনমুখী করার কাজ করে চলেছে।

বাংলার অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলির মধ্যে মহিষাদল রাজবাড়ী অন্যতম। মহিষাদলের রাজবাড়ির ইতিহাস বহু পুরনো। মহিষাদল রাজ পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ষষ্ঠদশ শতকে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ব্যবসায়ী জনার্দন উপাধ্যায় ব্যবসার কাজে এসেছিলেন মহিষাদলের কাছাকাছি গেঁওখালিতে।

পরে তিনি তৎকালীন মহিষাদল এলাকার রাজা কল্যাণ রায়চৌধুরির কাছ থেকে মহিষাদলের রাজত্ব কিনে নেন। সেই রাজবাড়ি এখন না থাকলেও ১৯৩৪ সালের তৈরি ফুলবাগ রাজবাড়ি। আর সেটাই এখন পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

রাজবাড়িতে শুধু রাজ আমল নয়, ভারতের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। ফুলবাগ রাজপ্রাসাদের একতলায় রাজপরিবারের পক্ষ থেকে সংগ্রহশালা করা হয়েছে।

এছাড়াও রাজপ্রাসাদের পাঁচটি ঘরে সযত্নে রাখা রয়েছে রাজপরিবারের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী, নানা চিঠিপত্র, তৈলচিত্র, নানা ছবি। দরবার হলটি রাজার সিংহাসন, বড় বড় তৈলচিত্র, প্রকান্ড বেলজিয়াম আয়না, বিভিন্ন ফটোগ্রাফ ও আসবাব পত্র দিয়ে সাজানো।

অন্যান্য ঘরগুলির একটিতে শিকার করা পশু(বাঘ, হরিন, ভাল্লুক, কুমির, বাইসন, শিয়াল, ইগল)স্টাফিং করে রাখা আছে। অন্য ঘরে ঢাল, তরবারি থেকে শুরু করে রাজ সেনাদের নানা অস্ত্র, পোষাক ,বাদ্যযন্ত্র, রাখা হয়েছে। বেশ কিছু পুরনো বই রয়েছে রাজার শোবার ঘরে।

মহিষাদল রাজবাড়ির সংগ্রহশালার দায়িত্বে থাকা স্বপন চক্রবর্তী জানান, পর্যটকদের জন্য প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত সংগ্রহশালা খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য মাত্র ১০ টাকা। প্রাসাদের পাশেই রয়েছে রাজপরিবারের তৈরি গোপাল জিউ মন্দির।

মহিষাদলের রানি জানকীদেবী ১৭৭৮ সালে এই মন্দির তৈরি করেছিলেন। তাছাড়াও মহিষাদলের রামবাগে ১৭৮৮ সালে তিনি রামজিউ মন্দির তৈরি করেন।

রাজবাড়ি ছাড়াও মহিষাদলের কাছে গেঁওখালিতে হুগলি, রূপনারায়ণ ও দামোদর নদের ত্রিবেণি সঙ্গম রয়েছে। সঙ্গমের মনোরম পরিবেশ দেখতেও অনেকে ভিড় করেন এখানে। মহিষাদল রাজবাড়ীর ৭০ একর জায়গা জুড়ে আম, তাল সহ নানা গাছের বন সৃজন রয়েছে।

রাজবাড়ীর বেশি অংশ জুড়ে আমের গাছ থাকায় জায়গার নামকরণ করা হয়েছে “আম্রকুঞ্জ” এছাড়াও রয়েছে বেশ কয়েকটি বড় বড় ঝিল। প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে আমগাছের ছায়ায় ঘন্টার পর ঘন্টা সময় যেমন কাটানো যাবে তেমনি ঝিলের পাড়ে উন্মুক্ত বাতাসে প্রিয়জন কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো যাবে বেশ।

পর্যটকদের রাত্রি যাপনের কথা ভেবেই রাজবাড়ীর কয়েকটি রুম নিয়ে অতিথিশালা গড়ে তোলা হয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে তা বুকিং করা যাবে বলে জানিয়েছেন রাজ পরিবারের বর্তমান সদস্য হরপ্রসাদ গর্গ।

তিনি আরও বলেন, “সরকারের সাহায্য ও সহযোগিতায় আমরা আমাদের রাজবাড়ির কিছু অংশ পর্যটকদের জন্য সাজিয়ে তুলেছি। এখনও অনেক কাজ করা হবে। করোনা আবহে তা করা যাচ্ছে না। তবে সরকারি পরামর্শ ক্রমেই আমরা ধীরে ধীরে তা করে তোলা হবে।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.