মহিষাদল: ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ক্রমেই কমছে বই পড়ার প্রবণতা। শিশু ও অল্পবয়সীদের মধ্যে এই প্রবণতা সর্বাধিক। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার মহিষাদল বইমেলায় অনন্য প্রয়াস। বইমেলা প্রাঙ্গণে তৈরি হয়েছএ ‘শিশু মহল’। নিত্য-নতুন নানা স্বাদের বইয়ের পাশাপাশি শিশু মনকে বুঝে নিতে থাকছেন বিশেষজ্ঞরা। অকপটে তাঁদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মাতছে শিশু থেকে শুর করে কিশোর-কিশোরীরা।

স্মার্টফোনে মজে অল্পবয়সীদের একটি বড় অংশ। আর তাই বইমেলার আয়োজন করে তাঁদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়িয়ে তুলতে একটানা ৬ বছর ধরে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে মহিষাদল বইমেলা সমিতি। ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে মহিষাদল বইমেলা সমিতির উদ্যোগে মহিষাদল রাজ বাড়ির ছোলাবাড়ি প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে বিদ্যাসাগর ষষ্ঠ মহিষাদল বইমেলা। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি রবিবার পর্যন্ত চলবে মহিষাদলের এই বইমেলা।

একাধিক প্রকাশনীর বুক স্টলের পাশাপাশি শিশুদের জন্য একটি অনন্য ব্যবস্থা রয়েছে মেলা প্রাঙ্গণে। তৈরি হয়েছে ‘শিশু মহল’ প্যাভিলিয়ন। বাবা-মায়ের হাত ধরে আসা কচিকাঁচারা বেশ কিছুটা সময় তাদের পছন্দ মতো বই পড়ছে শিশু মহলে। কীভাবে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়, বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা কী, এসবই কচিকাঁচাদের বোঝাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অল্পবয়সীদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তোলার জন্য নানা প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এমনকী একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টানা বই পড়লে বিশেষ পুরস্কারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মহিষাদল বইমেলায় রোজ সন্ধেয় উপচে পড়া ভিড় ‘শিশু মহল’-এ। প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকছে মেলা৷ মহিষাদল বইমেলা সমিতির সভাপতি তথা প্রাক্তন অধ্যাপক হরিপদ মাইতির মতে, একটি গাছ বড় করতে যেমন ছোট থেকে তার প্রতি যত্ন নিতে হয়, তেমনই শিশুদের বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতেও ছোট থেকেই তাদের বই পড়ার মনোযোগ বাড়িয়ে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে। আর সেই লক্ষ্যেই গত বছর থেকে তাঁরা শিশুদের জন্য ‘শিশু মহল’ এবং বিজ্ঞানমঞ্চের ব্যবস্থা করেছেন বইমেলা প্রাঙ্গণে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প