মহিষাদল: রথযাত্রা উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার মানুষের ঢল নামে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলে। চলতি বছরে ২৪২ বছরে পা রেখেছে মহিষাদলের এই রথযাত্রা৷ পুরী,মাহেশের পরেই উঠে আসে এই মহিষাদলের রথের নাম। ভারতবর্ষের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং শিল্পশৈলীতে অনবদ্য এই রথযাত্রাকে চাক্ষুষ করতেই শনিবার উপচে পড়া ভিড় দেখা গেল মহিষাদলে৷

এই ভিড়কে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেই বিষয়ে কড়া নজরদারি ছিল পুলিশের৷ আকাশপথে ড্রোন, এলাকার স্বেচ্ছাসেবী সংস্হা ও পুলিশের কড়া নজরদারিতে মোড়া ছিল এই রথযাত্রা৷ জেলার বাইরে থেকেও বহু মানুষ এদিন উপস্থিত হন৷ ডায়মন্ডহারবার,কলকাতা, দুই ২৪ পরগণা সহ বহু স্থান থেকে হাজির হন দর্শর্ণার্থীরা৷ এদিন রথের মেলার আম,কাঠালের বিক্রি ছিল বিশেষ চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে ক্ষেপে ক্ষেপে বৃষ্টির মধ‍্যেও দর্শনার্থীদের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। এদিন রাজ পরিবারের সদস্য হরপ্রসাদ গর্গের হাতেই রথের সূচনা হয়৷ মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তিলক কুমার চক্রবর্তী সহ অনন্যান্যরাও এদিন উপস্থিত ছিলেন এখানে৷

পড়ুন: ফণীর তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত পুরী জগন্নাথের নামেই মুক্তি চায়

ইতিহাস ঘাঁটলে জানাযায়, রাজা আনন্দলাল উপাধ‍্যায়ের স্ত্রী রানি জানকি দেবী মহিষাদলের রথের সূচনা করেছিলেন। এরপর ১৮০৪ সালে ওই রানির মৃত্যুর পর অল্পকালের জন্য মতিলাল পাঁড়ে মহিষাদলের রাজত্ব পান। সেই সময় তিনি একটি সতেরো চূড়োর রথ তৈরি করান। পরে ১৮৫২ সালে তৎকালীন রাজা লছমন প্রসাদ গর্গ বাহাদূর ওই সতেরো চূড়ো রথের সংস্কার করার জন্য কলকাতা থেকে কয়েকজন চিনা কারিগরকে আনিয়েছিলেন। সে সময় প্রায় চার হাজার টাকা খরচ করে তিনি রথের চারধারে চারটি মূর্তি বসিয়েছিলেন। ১৯১২ সালে স্হানীয় মিস্ত্রি মাধব চন্দ্র দে রথের সামনের কাঠের ঘোড়া দুটিকে তৈরি করেছিলেন। যা এখনও পর্যন্ত রথ বিগ্রহের মধ্যে দেখা যায়। রথে সেকালের ছোঁয়া থাকলেও এই রথ আজ নবরূপে সেজেছে। কারণ গত দুবছর আগে মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আর্থিক সহায়তায় এই রথের আমূল সংস্কার করা হয়েছে। ফলে রথ এখন নবরূপে নবযৌবনা।

চলতি বছরে মেলার পরিধি আরও কিছুটা বেড়েছে বলেই জানা গিয়েছে৷ বেড়েছে দর্শর্ণার্থীদের সংখ্যাও৷ মহিষাদল রাজ পরিবারের সদস্য হরপ্রসাদ গর্গ জানান, “এই রথ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রাচীন ঐতিহ্য প্রথম রানি জানকি স্হাপন করেছিলেন। ১৭৭৬সালে প্রথম এই রথযাত্রার সূচনা হয়। এরপর বহু পুরুষ এই ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছিলেন। আশা করি আমরাও তা ধরে রাখতে পারব।”