হুগলি: করোনা আবহে এবছর হুগলির মাহেশে রথযাত্রা হবে না৷ তবে নিয়ম মেনে হবে পুজো৷ জানাল মন্দির ট্রাস্ট কমিটি।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রথযাত্রা হিসেবে পরিচিত মাহেশে রথযাত্রা৷ করোনা পরিস্থিতিতে এবছর সেই রথযাত্রা সারম্বরে পালন করা হবে না৷ হুগলির জেলাশাসক, শ্রীরামপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির ট্রাস্ট কমিটি৷

মন্দির ট্রাস্ট কমিটি সূত্রে খবর, ঠিক হয়েছে, এবার রথে তোলা হবে না জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে। তার বদলে পুজোর আচার হিসেবে নারায়ণ শীলাকে মাসির বাড়ি নিয়ে যাওয়া হবে। রথের সময় মন্দিরের পিছনে অস্থায়ী মাসির বাড়ি গড়ে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে। আগামী ৫ জুন স্নান যাত্রা হবে মন্দিরের বারান্দায়। ২৩ জুন রথযাত্রা উপলক্ষে জনসমাগম এড়াতেই এই ব্যবস্থা৷

উল্লেখ্য, বিগত বছরে রথযাত্রার দিন বিকেলবেলা (প্রায় সাড়ে তিনটে নাগাদ) স্নানপিড়ি ময়দানের সামনে থেকে জিটি রোড ধরে ১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মাসিরবাড়ির মন্দিরে রথ পৌছায়। সাথে লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থী উপস্থিত থাকায় প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লাগে মাসিরবাড়ি যেতে। আবার ৮ দিন পর পূণঃযাত্রা বা উল্টোরথের দিন ঐ পথেই রথ স্নানপিড়ি ময়দানে ফিরে আসে। উল্টোরথে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেশি থাকায় রথ এসে থামতে থামতে সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ৬টা বেজে যায়।

মাহেশের রথযাত্রা ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম এবং বাংলার প্রাচীনতম রথযাত্রা উৎসব।এই উৎসব ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামপুর শহরের মাহেশে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। রথযাত্রার সময় মাহেশের স্নানপিড়ি ময়দানে এক মাস ধরে মেলা চলে। শ্রীরামপুরের মাহেশ জগন্নাথ দেবের মূল মন্দির থেকে মাহেশ গুন্ডিচা মন্দির (মাসীরবাড়ী) অবধি জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার ৫০ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন রথটি টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। উল্টোরথের দিন আবার রথটিকে জগন্নাথ মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়। করোনা পরিস্থিতিতে এবছর তা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির ট্রাস্ট কমিটি।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প