নয়াদিল্লি: বিশ্বকে পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করতে উদ্যোগী সংস্থা ‘আই ক্যান’কে শান্তির জন্য নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়েছে শুক্রবার৷ বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এখনও পর্যন্ত দুই ভারতীয় নোবেল পুরষ্কারে সম্মানিত হয়েছেন মাদার টেরেজা ও কৈলাস সত্যার্থী৷ তবে আশ্চর্যের বিষয় হল নোবেল শান্তি পুরষ্কারে এখনও পর্যন্ত নাম ঘোষণা হয়নি জাতীর জনক মহাত্মা গান্ধীর৷ এই নিয়ে বিতর্কও কম হয় নি৷

কুইন্ট নামক ইংরেজি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গিয়েছে, শত বিতর্কের মাঝে প্রথম উত্তরটি দেন Oyvind Tonnesson৷ ১৯৯৯-এর পয়লা ডিসেম্বর নোবেল প্রাইজের ওয়েবসাইট প্রকাশিত “Mahatma Gandhi, the Missing Laureate” নামে একটি প্রতিবেদনে প্রথম উত্তরটি দেন তিনি৷ তাঁর প্রতিবেদন Oyvind Tonnesson লিখেছিলেন, ১৯৩৭-য়ে নোবেল শান্তি পুরষ্কারের জন্য গান্ধীর নাম অনুমোদন করা হয়েছিল৷ তবে নোবেল কমিটি জানিয়েছিল প্রচুর অনুগামী থাকা সত্ত্বেও গান্ধীর সমালোচক কম নেই৷ রাজনৈতিক নেতা হিসাবে গান্ধীর অবস্থান পরিবর্তনশীল৷

এমনকি নোবেল কমিটির রিপোর্টে, উল্লেখ করা হয়েছিল গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতে চলা স্বাধীনতা আন্দোলনের কথা৷ সেখানে ব্রিটিশদের সঙ্গে ভারতীয়দের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে৷ এছাড়া বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে ১৯২০-২১ এর চৌরি-চৌরার ঘটনার কথা৷ যেখানে একটি সম্পূর্ণ পুলিশ স্টেশনে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল গান্ধীর অনুগামীরা৷ গান্ধী অহিংস আন্দোলনের কথা বললেও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন কোন ভাবেই অহিংস ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়েছিল নোবেল কমিটির রিপোর্টে৷ এছাড়া ১৯৪৭-এ ভারত-পাকিস্তান দেশ ভাগের জন্য বহু সমালোচক দোষারোপ করেছেন গান্ধীকে৷ এই সমস্ত কিছুর উল্লেখ ছিল নোবেল কমিটির সেই রিপোর্টে৷

জানা গিয়েছে, ১৯৪৮-এ গান্ধীজীর মৃত্যুর ঠিক দু’দিন আগে তাঁকে নোবেল শান্তি পুরষ্কার দেওয়ার জন্য ছটি আবেদনপত্র জমা পড়েছিল নোবেল কমিটিতে৷ তবে মৃত্যুর পরে কে বা কোন সংস্থা গান্ধীর নোবেল পুরষ্কার গ্রহণ করবে সেই বিষয়ে লিখিত কোন তথ্য ছিল না নোবেল কমিটির কাছে৷