মুম্বই: মারাঠা-ভূমে দারুণ সংকট, ড্যামেজ কন্ট্রোলে আসরে শরদ পাওয়ার। বেজায় অস্বস্তিতে মহারাষ্ট্র সরকার। সরকারের পথ চলা শুরুর ৩ মাসেই অসন্তোষ তুঙ্গে। একের মতে নাখুশ অন্য পক্ষ। শিবসেনা-কংগ্রেস-এনসিপির সংসারে তাই ভাঙনের ভ্রূকুটি। সরকারের প্রবল এই সংকটে এখন ত্রাতার ভূমিকায় শরদ পাওয়ার।

দীর্ঘদিনের সঙ্গী বিজেপির হাত ছেড়ে একসময়ের প্রবল প্রতিপক্ষ কংগ্রেস ও এনসিপিকে সঙ্গে নিয়ে মহারাষ্ট্রে সরকার গড়েছে শিবসেনা। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বে চলছে মহারাষ্ট্রের জোট সরকার। তবে একাধিক ইস্যুতে তিন দলের মধ্যে ক্রমেই দেখা দিচ্ছে মত-পার্থক্য।

কংগ্রেস ও শরদের নেতৃত্বাধীন এনসিপির সঙ্গে রাজনৈতিক সংসার মোটে সুখকর হচ্ছে না শিবসেনার কাছে। উদ্ধবের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা প্রমাণে যে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা, তার আগেই মহারাষ্ট্রে বড়সড় সংকটের মেঘ দেখা দিচ্ছে মহারাষ্ট্র সরকারে।

এনসিপি ও শিবসেনার সংকটের মূল বিষয় হল দুটি। একটি হল এলগার পরিষদ ঘিরে তদন্ত, আর অন্যটি হল মহারাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় সরকারের এনপিআর লাগু করা। এই দুটি বিষয়ে শিবসেনার নেতৃত্বাধীন সরকার পদক্ষেপ নিতেই এনসিপি নেতৃত্বে তাতে বাধ সাধতে শুরু করেছে। এমনকী উদ্ধব ঠাকরে জোট-শর্ত মানছেন না বলেও অভিযোগ একাংশের এনসিপি নেতাদের।

মহারাষ্ট্র সরকারে সংকট দেখা দিতেই ফের তৎপরতা নিয়েছেন এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার। দলের মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন পাওয়ার। মতবিরোধের জায়গা ঠিক কোথায় এবং জোট-রাজনীতির শর্ত নিয়েও দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন মারাঠা-রাজনীতির চাণক্য। এলগার পরিষদ তদন্ত মহারাষ্ট্রে ভীমা কোরেগাঁওয়ের ঘটনার হিংসা ঘিরে তদন্ত। পুণে পুলিশের হাত থেকে তদন্তভার নিয়ে এনআইএ-কে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার।

উদ্ধব ঠাকরের এই সিদ্ধান্তে প্রবল আপত্তি এনসিপি-র। অন্যদিকে এনপিআর নিয়েও সেনার সঙ্গে সংঘাতের পরিবেশ এনসিপি-র। দেশ-জুড়ে বিজেপি-বিরোধী প্রায় সব দলই এনপিআর ইস্যুতে মোদী সরকারের বিরোধিতা করছে। এই আবহে মহারাষ্ট্রে ১ মে থেকে এনপিআর লাগুর সিদ্ধান্তে উদ্ধব ঠাকরের উপর বেজায় চটেছে এনসিপি।