মুম্বই: ভয়াবহ হামলার পর নয় বছর কেটে গেলেও এখনও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের ভূত তাড়া করছে মুম্বই পুলিশকে৷ যে দুর্বল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের কারণে জঙ্গিদের সঙ্গে এনকাউন্টারে এটিএস প্রধান হেমন্ত কারকারের প্রয়াণ হয় সেই রকমই জ্যাকেট আরও এসেছে পুলিশের কাছে৷ এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷

মুম্বই হামলার ন’বছর পর বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পেয়েছে মহারাষ্ট্র পুলিশ৷ কিন্তু অধিকাংশ জ্যাকেট ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ কেন? কারণ নামেই সেগুলি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট৷ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সেই পোশাকের ভরসায় একে ৪৭ এর মতো রাইফেলের মোকাবিলা করতে শরীরে ঢুকে যাবে বুলেট৷ এতেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে পুলিশ কর্তাদের৷ উঠে আসছে হেমন্ত কারকারের মৃত্যুর বিষয়টি৷ ফলে তড়িঘড়ি নতুন জ্যাকেট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন মহারাষ্ট্র পুলিশ কর্তারা৷

সম্প্রতি মহারাষ্ট্র পুলিশ ৪৬০০টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট হাতে পায়৷ তার মধ্যে ১৪৩০টি জ্যাকেট এ.কে ৪৭ রাইফেলের পরীক্ষায় ফেল করে গিয়েছে৷ তাই সেগুলি কানপুরের ম্যানুফ্যাকচারিং ফার্মে ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়৷ পুলিশের অতিরিক্ত ডাইরেক্টর জেনারেল ভিভি লক্ষ্মীনারায়ণ বলেন, ‘‘কানপুরের ওই ম্যানুফ্যাকচারিং ফার্ম থেকে তিনটি ব্যাচে মোট ৪৬০০টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট আসে৷ তার মধ্যে ১৪০০টি জ্যাকেট ফিরিয়ে দেওয়া হয়৷ কারণ ওই জ্যাকেটগুলি একে ৪৭ রাইফেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি৷ চন্ডীগড়ের সেন্ট্রাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে হয় পরীক্ষা৷ তাতে তিন হাজার জ্যাকেট পাশ করতে পেরেছে৷

পুলিশ বিভাগ পাঁচ হাজার বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের অর্ডার দেয়৷ এর জন্য ব্যয় হয়েছে ১৭কোটি টাকা৷ কিন্তু পাঁচ হাজারের মধ্যে চারশোটি কম জ্যাকেট পায় পুলিশ৷ যে জ্যাকেটগুলি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে তার বদলে বরাত পাওয়া কোম্পানিকে নতুন করে জ্যাকেট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে৷