মুম্বই: ‘একে রামে রক্ষা নেই দোসর লক্ষণ।’ করোনাকালে মহারাষ্ট্রের(Maharashtra) অবস্থা এখন ঠিক এটাই। একদিকে করোনার বাড়বাড়ন্ত অন্যদিকে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো দাপট দেখাচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস(Black Fungus) । যারফলে দুই সংক্রামক ব্যাধির জোড়া ফলায় বিদ্ধ মহারাষ্ট্র। কারণ, করোনার (Corona) পাশাপাশি উদ্ধব ঠাকরের (Maharashtra CM) রাজ্যে এবার ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস (Black fungus)।

এদিকে করোনা আবহে(Coronavirus) এই ছত্রাককে (Black fungus) ঘিরে নতুন করে ভীতির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এই বিষয়ে মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে জানিয়েছেন, মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা করা হচ্ছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগীদের (Black fungus)। ইতিমধ্যে ২০০০ জন মিউকরমাইকোসিসের (mucormycosis) রোগীর চিকিৎসা চলছে। সক্রিয় রোগীর সংখ্যার সঙ্গে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের (Black fungus) সংখ্যা সমানতালে বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, গত সোমবার ওড়িশায়(Odisha) প্রথম এই মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে ততক্ষণে অবশ্য এই ছত্রাক থাবা বসিয়েছে গুজরাট(Gujrat) , দিল্লি(Delhi) সহ দেশের একাধিক রাজ্যে।

বুধবার সকাল পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের থানে জেলায় মোট ২ জন ব্যক্তি এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও থানে থেকে আরও ৬ জন এই ছত্রাকের দ্বারা সংক্রামিত হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অন্যদিকে গত ১২ ঘণ্টায় জয়পুরের মোট ১৪ জন ব্যক্তি এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়াও রাঁচি থেকে ২ জন, রাজস্থান থেকে ৪ জন, উত্তরপ্রদেশের ৫ জন এই ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন এবং অনেকেরই দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গত সোমবার ওড়িশায় ৭১ বছর বয়সী করোনা সংক্রমিত এক ব্যক্তির শরীরে এই ছত্রাকের জীবাণু মেলে। আক্রান্ত রোগীর ডায়াবেটিসের সমস্যাও রয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি ওড়িশার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মধ্যপ্রদেশে(MP) ইতিমধ্যে ১৩ জনের মিউকরমাইকোসিসের চিকিৎসা চলছে। এছাড়াও আগে দুজন মারা গিয়েছেন এই ছত্রাকে আক্রান্ত হয়ে। তবে কীভাবে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় সেই বিষয়ে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা শুরু করেছে মধ্যপ্রদেশ সরকার।

অন্যদিকে, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় অ্যাম্ফোটেরিসিন বি’র(Amphotericin B) উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। যা শ্লেষ্মাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি একটি অ্যান্টি ফাঙ্গাল ড্রাগ। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হয়। এই ওষুধের দাম কমানোর দিকে নজর দিচ্ছে প্রশাসন। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই ওষুধের দাম অনেক। কিন্তু বর্তমানে যেহেতু এটি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে তাই যাতে সবাই এই ওষুধ ব্যবহার করতে পারে তার জন্য এর দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও সরকারি তরফে খবর।

অ্যাম্ফোটেরিসিন বি(Amphotericin B) ওষুধের একটির দাম ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা। ৪ থেকে ১২ সপ্তাহ এই ওষুধ খেতে হয়। জলগাঁওয়ের ইএনটি সার্জেন ড. সঞ্জীব জামবারে জানিয়েছেন, মিউকোরমাইকোসিস রোগীদের চিকিৎসায় প্রতিদিন ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। অনেকেই এই বিপুল টাকার জন্য চিকিৎসা করাতে চান না। আর যদি বিনা চিকিৎসায় রোগীকে রাখা হয় তবে তার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। যে সব করোনা রোগীদের কো মর্বিডিটি রয়েছে বা যাদের স্টেরয়েড নিতে হচ্ছে তাদের ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সহজে আক্রমণ করে। এই রোগের উপসর্গগুলি হল মাথা ব্যথা, জ্বর, চোখের নিচে যন্ত্রণা, বমি বমি ভাব, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.