মুম্বই: বিয়ের পরে নববধূর কুমারিত্ব পরীক্ষা নিয়ে আপত্তি তুলেছিল পরিবার৷ এই অবমাননাকর পরীক্ষার মুখে ফেলতে চায়নি নববধূকে৷ সেই ঘটনার জের বইতে হল গোটা পরিবারকে৷ কার্যত গত এক বছর ধরে সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়েছে ওই পরিবারকে৷ মহারাষ্ট্রের থানে জেলার ঘটনা৷ ওই পরিবার কনঞ্জরভট সম্প্রদায়ভুক্ত৷

বাধ্য হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে ওই পরিবার৷ পুলিশ সূত্রে খবর ইতিমধ্যেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চারজনের নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছে৷ বুধবার রাতে এদের বিরুদ্ধে থানের অম্বেরনাথ টাউন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়৷ পুলিশের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জানান বিবেক তামাইচিকর৷

আরও পড়ুন : বিবাহিতা মহিলার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ায় গাছে বেধে মার যুবককে

তিনি জানান, তার পরিবারকে বয়কট করে রেখেছে তথাকথিত সমাজের নীতিপুলিশরা৷ কারণ তাঁর পরিবার চায়নি নববধূর ভার্জিনিটি টেস্ট হোক৷ পঞ্চায়েতের নিদান মেনে তাদের ওপর গত এক বছর ধরে নানা রকম সামাজিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর৷

সামাজিক কোনও অনুষ্ঠানেই ডাকা হচ্ছে না তাঁদের৷ এমনকী তাঁর ঠাকুমা গত সোমবার মারা যাওয়ার পর সম্প্রদায়ের কেউই সেই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে আসেননি৷ এলাকায় একজনের মারা যাওয়ার পরেও বিয়ের মত নাচগানের আসর বসানো হয়৷ জোরে জোরে বাজানো হয় মাইক বলে অভিযোগ বিবেকের৷

উল্লেখ্য, একেবারেই বিজ্ঞানসম্মত নয় এই ভার্জিনিটি টেস্ট। শুধু তাই নয়, ডাক্তারি সিলেবাসে মহিলাদের কুমারিত্ব নিয়ে পুরো একটা অধ্যায় রয়েছে। এই অধ্যায়টিও সমাজে ও হবু ডাক্তারদের মনে লিঙ্গ বৈষম্য জাগিয়ে তুলছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের৷

আরও পড়ুন : একই গোত্রে বিয়ের ‘অপরাধে’ জামাইকে গুলি

তবুও কোনও মহিলা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কিনা তা বুঝতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এই ২ আঙুলের পরীক্ষা। ডাক্তাররাও এই পরীক্ষার ওপর ভরসা রেখে এসেছেন। অভিযোগকারী মহিলার ওপর এই পরীক্ষা রীতিমত মানসিক অত্যাচার ডেকে আনে বলে মতামত বিভিন্ন মহলে। ডাক্তারি সিলেবাস থেকেই এই পরীক্ষা তুলে দেওয়ার আর্জি জানানো হয় মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য দফতরে।

মহারাষ্ট্র ইউনিভার্সিটি অফ হেল্থ সায়েন্সের একটি এক্সপার্ট প্যানেল বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে এই আবেদন জানানো হয়েছে। ২০১৮’র ডিসেম্বরে ডা. ইন্দ্রজিত্‍ খাণ্ডেকর পুরোপুরিভাবে এই পরীক্ষা তুলে দেওয়ার আবেদন জানান। এই পরীক্ষার মাধ্যমে কোনভাবে কারোর ওপর ধর্ষণ হয়েছে কিনা, তা নির্ভুল বোঝা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।