মুম্বইঃ আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে গিয়ে মহারাষ্ট্র। না সাফল্যের কোনও কাহিনী নয় এটা। বরং এর পিছনে আতঙ্ক আর প্রিয়জন হারানোর আর্তনাদ লুকিয়ে। পরিসংখ্যান বলছে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর হারে পৃথিবীতে সবথেকে এগিয়ে ভারতের বাণিজ্য নগর। টানা লকডাউন চললেও, মৃত্যু মিছিলে খামতি নেই মহারাষ্ট্রে। মৃতের সংখ্যা সেখানে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

মঙ্গলবার করা একটি সমীক্ষা বলছে, গোটা পৃথিবীর মধ্যে মৃত্যুর হার সবথেকে বেশি মহারাষ্ট্রে, যা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে রীতিমত চিন্তার কারণ। ১০ থেকে ১৫ এপ্রিল- মহারাষ্ট্রের পাবলিক হেলথ ডিপার্টমেন্ট বেশ কিছু তথ্য যোগাড় করে। সেই তথ্যের ওপর পরীক্ষানিরীক্ষা চালায় মেডিকাল এডুকেশন অ্যাণ্ড ড্রাগস ডিপার্টমেন্ট।

সেই সমীক্ষায় প্রকাশ, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা যেমন মহারাষ্ট্রে হু হু করে বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। এই তথ্যে উদ্বিগ্ন কেন্দ্র। রাজ্যের পক্ষ থেকে দুটি উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল তৈরি করা হয়েছে। একটি দল কাজ করবে মুম্বইয়ের জন্য, অপরটি কাজ করবে বাকি মহারাষ্ট্রের জন্য, জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে। মুম্বইয়ের কমিটির নেতৃত্ব দেবে চিকিৎসক অভিনাশ সুপে।

রাজ্যের জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তার নেতৃত্ব দেবেন ডিরেক্টর হেলথ। কীভাবে এই মৃত্যু মিছিল কমানো যায়, তারই চেষ্টায় রয়েছেন চিকিৎসকরা। গোটা দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত দেশে নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১০,৩৬৩।

পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। এখনও পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩২৪। ১০৩৬ জন করোনা-মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে এই তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। সংক্রমণ থামার লক্ষণ নেই। বরং দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

ইতিমধ্যেই মারণ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্রেই জোরালো থাবা মারণ করোনার। মহারাষ্ট্রে মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৩৩৪। করেনায় মৃত্যু হয়েছে ১৬০ জনের। এরই পাশাপাশি চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২১৭ জন। করোনা আক্রান্তের নিরিখে মহারাষ্ট্রের পরের স্থান রাজধানী দিল্লির।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV