মুম্বই:  বিশ্বজুড়ে লকডাউন। বন্ধ সমস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য। টলমল বিশ্বের অর্থনীতি। প্রভাব পড়েছে ভারতেও। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যে আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে মোদী সরকার। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি সহ সাংসদের বেতন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি এমপি ল্যাডের টাকাও বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজ্যগুলিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাতেও আর্থিক বোঝা বাড়ছে রাজ্যগুলির।

আর তা সামাল দেওয়ার জন্যে সমস্ত বিধায়কদের বেতন কাটার সিদ্ধান্ত মহারাষ্ট্র সরকারের। দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি খারাপ। আর তা সামাল দেওয়ার জন্যে রাজ্যের সমস্ত বিধায়কের বেতনের ৩০ শতাংশ কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী পরিষদ। এক বছরের জন্য এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। নয়া এই আর্থিক বছর, অর্থাৎ এপ্রিলের এক তারিখ থেকেই নয়া এই নিয়ম কার্যকরী হবে বলে জানানো হয়েছে।

মহারাষ্ট্রের ২৮৮ জনেরও বেশি বিধায়ক রয়েছেন। মহারাষ্ট্রের ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিধায়ক এবং পরিষদের সদস্যদের পাশাপাশি রাজ্যের সমস্ত সরকারি প্রতিনিধির বেতনের ষাট শতাংশ করোনা তহবিলে দেওয়ার হবে। এর ফলে প্রায় একটা বিশাল অংকের করোনা তহবিল তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, সারা দেশেই আক্রান্তের সংখ্যাটা বেড়ে চলেছে লাফিয়ে লাফিয়ে। আর মহারাষ্ট্রে সংখ্যাটা বেশ উদ্বেগজনক। ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্রে হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর ধারাভি বস্তিতে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ায় আশঙ্কা বেড়েছে কয়েকগুণ। মুম্বইয়ের এই জনবহু বস্তিতে কয়েক লক্ষ মানুষের বাস। আর সেখানে এখনও পর্যন্ত ১৭ জনের আক্রান্ত হওয়ার খাবর পাওয়া গিয়েছে ধারাভি বস্তি থেকে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। তাই ধারাভির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করল প্রশাসন।

সাড়ে ৭ লক্ষ বাসিন্দাকে করোনার টেস্ট করা হবে বলে জানা গিয়েছে। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে সেই টেস্ট করার ব্যবস্থা করেছে বিএমসি। এর জন্য ১৫০ জন চিকিৎসকের সাহায্য নিচ্ছে প্রশাসন। মুম্বইতে নতুন করে ১৬২ জনের সংক্রমণের ঘটনার পর মোট করোনা পজিটিভের সংখ্যা ১২৯৭ জন।

শুধুমাত্র আক্রান্তই নয়, মৃত্যুর সংখ্যার নিরিখেও ভারতের সকল রাজ্যগুলির মধ্যে সবার আগে রয়েছে মহারাষ্ট্র। মহারাষ্ট্রে এপর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭২ জনের, যা প্রায় গোটা দেশের অর্ধেক।