তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: শত বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠান শুরু হল বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়া মোলবনা উচ্চ বিদ্যালয়ে। সোমবার প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বাঁকুড়া রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী কৃত্তিবাসানন্দজী মহারাজ।

উদ্বোধনী ভাষণে বাঁকুড়া রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী কৃত্তিবাসানন্দজী মহারাজ বলেন, আজ থেকে একশো বছর আগে শিক্ষা বিস্তারে এই বিদ্যালয় তৈরির ভাবনা ছিল সুদূর প্রসারী। হাজারো প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও প্রত্যন্ত এই গ্রামীণ এলাকায় এই স্কুল তৈরির কথা যাঁরা ভেবেছিলেন তাঁরা প্রত্যেকেই যথেষ্ট উন্নত মনের মানুষ ছিলেন। একটা স্কুলের একশো বছর অতিক্রান্ত কম কথা নয়। একশো বছরের সেই গৌরবগাঁথাকে সঙ্গী করে এই স্কুল আগামী দিনে আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, এদিন সিমলাপালের বিক্রমপুর সারদা ইন্সটিটিউট অফ টিচার এডুকেশনের প্রথম বার্ষিক সমাবর্তন উৎসবের সূচনা করলেন বাঁকুড়া বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ দেবনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম ডিগ্রী প্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দিলেন৷ তিনি বলেন, আপনারা আগামী দিনের শিক্ষক। আপনাদের সকলকে একজন ভালো শিক্ষক হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষও হতে হবে।

ওই কলেজের সভাপতি অনুপ পাত্র বলেন, এই প্রথম পড়ুয়া শিক্ষকদের হাতে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শংসাপত্র ও পদক তুলে দেওয়া হল। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে কলেজ প্রাঙ্গণে একটি চারা গাছ রোপণ করেন উপাচার্য ডঃ দেবনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলে তিনি জানান।

এছাড়াও পরে স্থানীয় কেশিকচা উচ্চ বিদ্যালয়ে দু’দিন ব্যাপী সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ দেবনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানে তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা বিস্তারে স্বাধীন ভারতে এই গ্রামীণ বিদ্যালয় স্থাপনে যুক্ত সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এখান থেকেই আগামী দিনে অনেক মেধাসম্পন্ন ছাত্র ছাত্রী উঠে এসে এই স্কুলের মুখ উজ্জ্বল করবে।

কৃত্তিবাসানন্দজী মহারাজ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, বিধায়ক অরূপ খাঁ, স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়, বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক অরুণাভ মিত্র প্রমুখ।