কলকাতা: মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী যদি এসএসসির অনশনকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিতে পারেন তাহলে কেন বারবাক মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো সত্বেও চাকরির পরিক্ষার্থীদের সমাধান করলেন না? কেন আইনি জটিলতায় আটকে দেওয়া হয়েছে আন্দোলন কারীদের ভবিষ্যৎ? এই প্রশ্নই তুললেন ফুরফুরা শরীফ আহলে সু্ন্নাতুল জামাতের কর্ণধার৷

তাঁর বক্তব্য “গত শুক্রবার যখন অনশনকারী মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষার্থীরা নামাজ পড়ছিলেন ঠিক সেই সময় নুন্যতম আলোচনা না করেই তাঁদের পিছন থেকে গেঞ্জী জিনস পরা কলকাতা পুলিস লাঠিচার্জ করে। অনশনকারীরা প্রতিবাদ করলে তাঁদের নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্ত সামগ্রী কেড়ে নেওয়া হয় এবং অনশন মঞ্চ পুরোপুরি ভেঙে দেয়। ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে সেখান থেকে শহিদ মিনারে জমায়েত হলে সেখানেও লাঠিচার্জ করে৷ তখন সকলে দৌড়ে গিয়ে টিপু সুলতান মসজিদে প্রবেশ করে কিন্তু পুলিস মসজিদ কমিটিকে চাপ দিয়ে মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করে এবং সেখানেও লাঠিচার্জ করে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে শিয়ালদহের বাসে তুলে দেয়।”

তিনি এদিন আরও জানান, “অনশন মঞ্চ থেকেই মনোজ চক্রবর্তী , মিজানুর রহমান ও মইনুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশি অত্যাচারে গুরুতর আহত মইনুল ইসলামকে কোথায় ভরতি করা হয়েছে, কেমন আছে, সে বিষয়েও পুলিশ কিছু জানায়নি৷” তাঁর দাবি “কেন গণতান্ত্রিক দেশে হবু শিক্ষকদের প্রতি স্বৈরাচারী আক্রমন করা হল? সব থেকে বড় কথা আজ কেন মাদ্রাসা সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ন পরীক্ষার্থীদের অনশন করতে হল?”

আরও পড়ুন : সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে ভোট দেবেন ১০৭ বছরের রাম প্রসাদ

তিনি বলেন “বিগত কয়েক বছর থেকেই রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃত ভাবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া জটিল করে রেখে দুর্নীতির আখড়াতে পরিনত করেছে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে। রাজ্য সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ার দুর্নীতির ফলশ্রুতি হল হবু শিক্ষকদের অনশন মঞ্চ।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, “২০১৪ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারী ষষ্ট মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়৷ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় শূণ্যপদ ৩১৮৩টি৷ বিভিন্ন আইনি জটিলতায় বন্ধ হওয়ার কারনে ২০১৮ সালের ১৭ মে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় ২৬০০’র বেশি নিয়োগ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে ৩১৮৩ টি শূণ্যপদের কথা বললেও সুপ্রিমকোর্টে হলফনামা দেয় রাজ্য সরকার ২৫৭০টি। অথচ কমিশনের লিখিত পরীক্ষা়য় উত্তীর্ন হয়েছিলেন ৩৭০৬ জন। ইন্টারভিউ দেওয়ার পর সংখ্যা হয় ৩২০০ জন৷ কিন্তু সরকার বিজ্ঞপ্তির ৩১৮৩টির বদলে ২৫৭০টির প্যানেল প্রকাশ করে ও তাঁদের মধ্যে নিয়োগ করা হয় ১৯৭০জনকে অর্থাৎ সরকারের বিজ্ঞপ্তির ১২১৩টির কম শূণ্যপদ।”

আরও পড়ুন : একসময় মনমোহনকে কালো পতাকা দেখানো ছাত্রনেতাই রণকৌশল ঠিক করছেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কার

তিনি রাজ্য সরকারের প্রতি গুরুতর অভিযোগ করে বলেন “এখানেই ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে জটিল করা হয়েছে৷ শুধু তাই নয় এরপর নিয়োগের জন্য কাউন্সেলিং শুরু হয় ২০১৮ সালের ২২শে জুন, এবং এই সময় ১৫জন প্রার্থীর ” রেকমেন্ডশন কপি” দিতে অস্বীকার করে কমিশন। সেই ১৫ জন মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন কিন্তু কোন সমাধান হয়নি। এরপর আদালতে সিঙ্গল বেঞ্চ রেকমেন্ডশন কপি দেওয়ার নির্দেশ দেয় কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফকে৷ কিন্তু তা না করে পালটা ডিভিশন বেঞ্চে তিনি আবেদন করেন৷ এই মামলার শুনানি ৫ই এপ্রিল৷

তিনি রাজ্য সরকারকে ও কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন “যে বা যারা এই নিরীহ মাদ্রাসা সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ন ছেলেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করছে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন আর অবিলম্বে সমস্ত শূণ্যপদে নিয়োগ করতে হবে এবং দোষী পুলিশদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে নইলে আগামীদিনে কলকাতার রাজপথ স্তব্ধ করে দেব।”