ভোপাল: শ্রীলঙ্কায় রয়েছে রামায়ণের গল্প। তাই সেখানে গড়ে দেওয়া হবে মন্দির। ক্ষমতায় থাকাকালীন এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। সেই পরিকল্পনাই এবার বাস্তবায়িত করতে চলেছেন রাজ্যের কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ।

২০১০-এ এই ঘোষণা করেছিলেন শিবরাজ সিং চৌহান। সেইসময় রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার এও জানিয়েছিলেন যে শ্রীলঙ্কা সরকারের তরফে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ছ’বছরে আর এ ব্যাপারে তেমন কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

রামায়ণে উল্লেখ রয়েছে শ্রীলঙ্কার এক বিখ্যাত জায়গার। দভুরুমপোলা নামে ওই জায়গাতেই সীতার অগ্নিপরীক্ষা হয়েছিল বলে কথিত আছে। বর্তমানে বহু পর্যটকও যান সেখানে। সেই স্থানেই মন্দির তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ২০১৩-তে যখন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে সাঁচীতে আসেন, তখন সেখানে মন্দির গড়ে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন শিবরাজ।

২০১৬-তে শ্রীলঙ্কার ওই জায়গা খতিয়ে দেখতে বিশেষ টিমও পাঠানো হয়। বেঙ্গালুরুর একটি ফার্ম ডিজাইন তৈরি করে দেয় বলেও সূত্রের খবর। এও জানাও হয় যে মন্দির তৈরি করতে ১২ থেকে ১৮ মাস লাগতে পারে। ১২ থেকে ১৪ কোটি টাকা খরচ হবে বলেও জানানো হয়েছিল।

দভুরুমপোলা নামে ওই জায়গায় একটি বৌদ্ধ মনাস্টারি রয়েছে। সেই মনাস্টারি চত্বরেই মন্দির বানানোর কথা ভাবা হয়েছে। স্থানীয় লোকে বিশ্বাস করে সীতা যেসব গয়না পরেছিলেন, সেসব নাকি আজও পুড়ছে সেখানে।

শিবরাজ সিং চৌহানের প্রাক্তন সেক্রেটারি এও জানিয়েছেন যে ওই প্রজেক্টের জন্য ১ কোটি টাকা বরাদ্দও করে দিয়েছিল মধ্যপ্রদেশ সরকার। কিন্তু শ্রীলঙ্কার ওই মনাস্টারির পুরোহিতের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে। এরপর মধ্যপ্রদেশ থেকে ক্ষমতা চলে যায় বিজেপির। তাই সেই পরিকল্পনা স্থগিত হয়ে যায়।

রামায়ণের বারণের রাজত্ব এই শ্রীলঙ্কাতে ছিল বলেই বিশ্বাস করা হয়। তাই এই দেশের বিভিন্ন জায়গার সঙ্গে রামায়ণের গল্প জড়িয়ে আছে।