স্টাফ রিপোর্টার, পূর্ব বর্ধমান: সিআইডির হাতে ধৃত দুই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সহ চার জন৷ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে মোট ৪টি মোবাইল ফোনও৷ মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। প্রথমদিন বাংলা, দ্বিতীয় দিন ইংরাজির প্রশ্ন পরীক্ষা শুরুর আধঘন্টা পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে প্রশ্নপত্র। ইতিহাস, ভূগোলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে৷ এমনকি সোমবার অঙ্ক পরীক্ষার প্রশ্নও হোয়াটসঅ্যাপ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ৪ জন ধরা পড়ার পরও এই প্রশ্ন ফাঁসচক্রে আরও অনেকে যুক্ত বলে মনে করছে সিআইডি৷

ঘটনায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে পর্ষদের তরফে বিধাননগর সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০৫, ৫০৫(বি), ৪২৭, ৪০৬ ধারায় মামলা রুজু হয়। ঘটনার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়।

তদন্তে নেমে সিআইডি জানতে পারে সন্দেহভাজনদের মধ্যে ২জন মেমারীর হাটপুকুর এলাকার মামুন ন্যাশনাল স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। রবিবার রাত প্রায় সাড়ে নটা নাগাদ সিআইডির বিশেষ টিম আচমকা হানা দেয় মেমারীর ওই স্কুলে। ওই স্কুলের এবছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মালদার কালিয়াচক এলাকার বাসিন্দা সাহারুল আমির এবং কাটোয়ার কৈথন এলাকার বাসিন্দা শাহাবাজ আলি মণ্ডলকে আটক করে রাত প্রায় আড়াইটে পর্যন্ত টানা জিজ্ঞাসাবাদ চলে৷

এরপর তাঁদের নিয়ে তদন্তকারী দল পৌঁছায় মেমারী থানায়। সঙ্গে নিয়ে যান তাঁদের দুটি মোবাইল ফোনও। এরপর সোমবার সকালে তদন্তকারী দল মেমারীর কৃষ্ণবাজার এলাকার অভিনন্দন লজে হানা দেন। সেখানে লজে থাকা দুই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এদের মধ্যে মালদার কালিয়াচকের সেলিম আখতার এবং পাণ্ডুয়ার সাজেদুর রহমানকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জানা গিয়েছে, মোবাইল নিয়ে আপত্তিকর কিছু করার জন্য মামুন ন্যাশনাল স্কুলের হস্টেল থেকে তাদের প্রায় মাস সাতেক আগে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই তারা ওই লজে থেকেই পরীক্ষা দিচ্ছিল। স্কুলের নিয়মানুযায়ী স্কুলে মোবাইল নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ। মোবাইল নিয়ে গেলে তা ভেঙেও দেওয়া হয়।

কিন্তু তারপরেও ওই দুজন নিয়মিত মোবাইল নিয়ে যাচ্ছিল। বারবার নিষেধ করলেও তারা তা না শোনায় তাদের স্কুলের হস্টেল থেকে বের করে দেওয়া হয়। দুই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর একজনের সিট পড়েছে মেমারি রসুলপুর হাইস্কুলে। অপরজনের সিট পড়েছে বাগিলা হাইস্কুলে।

কাটোয়ার কৈথন গ্রামের নীলের পাড় এলাকার বাসিন্দা শাহাবাজ আলি মণ্ডলের মামা জালাল আহমেদ সেখ এবং বন্ধু আলমগীর খান জানিয়েছেন, সাহবাজের বাবা সেনাবাহিনীতে কর্মরত। সাহাবাজ স্কুলের নিয়ম মেনেই কোনো ফোনই ব্যবহার করত না। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র সে। একমাত্র বাড়িতে এলেই সে ফোন ব্যবহার করত।

তা সত্ত্বেও কিভাবে এই ঘটনায় সে জড়িয়ে গেল নাকি তাকে ফাঁসানো হয়েছে তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। এদিকে, সোমবার সকালে ধৃতদের নিয়ে কলকাতায় চলে যাবার ঘটনায় এদিন সকালেই খবর পেয়ে সাহাবাজের মা সামিমা বেগম কলকাতায় আসেন৷

তদন্তকারী দল জানতে পারেন, সেলিম আখতার একটি হোয়াটস্অ্যাপ গ্রুপ তৈরী করেন – খোকাবাবু ৪২০ নামে। যেখানে অধিকাংশ সদস্যই রয়েছেন মালদা এলাকার। মোট ৫০জন সদস্য রয়েছেন ওই গ্রুপে। ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমেই এবছর মাধ্যমিকের প্রথম দিন থেকে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটছে।

প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর দুই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে তা গ্রুপে পোস্ট করে দিত। তারপর প্রশ্নের উত্তর লিখে তা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া হত। গ্রুপে আরও কয়েজন সদস্য রয়েছে বলে সিআইডি জেনেছে। এবার মাধ্যমিকে মোবাইলের ব্যবহার নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। তারপরও কিভাবে মোবাইলে ছবি তুলে তা বাইরে পাঠানো হত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

তারা কিভাবে প্রশ্নপত্র বাইরে পাঠালো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে কি নজরদারি এড়িযে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতরা হলে মোবাইল নিয়ে যেত? বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।