প্রতীতি ঘোষ, বসিরহাট: শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গে নিয়েই জীবন যুদ্ধ জেতার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের বাসিন্দা শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী মনিরা খাতুন। পরীক্ষা কেন্দ্রে বেঞ্চের ওপর শুয়ে শুয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন তিনি।

উচ্চতা দুফুট দাঁড়াতে পারেন না। শুয়ে শুয়ে লেখাপড়া করেন। দুচোখে তার লেখাপড়া শিখে বড় হওয়ার তীব্র বাসনা। এই আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে বামনপুকুরিয়া এস এম এম হাই স্কুলে। শারীরিকভাবে জন্ম থেকে ১০০% প্রতিবন্ধী। কখনো বসতে পারে না। শুয়ে থেকে জীবন সংগ্রামের লড়াইতে আলোর পথের দিশারী এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মনিরা খাতুন বয়স ১৬।

বসিরহাট মহকুমার মিনাখাঁ ব্লকের কুমারজোল গ্রাম পঞ্চায়েতের মালিয়াড়ি গ্রামে মনিরার বাড়ি। একমাত্র ভাই আশিকুল মোল্লা সেও শারীরিক প্রতিবন্ধী, পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। বাবা মোক্তার আলী মোল্লা পেশায় ভ্যানচালক। জন্ম থেকে একমাত্র মেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী। শুয়ে জীবনের বাঁচার লড়াই। একদিকে শিক্ষার আলো, অন্যদিকে চাকরি পেয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সবমিলিয়ে অদম্য ইচ্ছা শক্তি। সব প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে।

ছোট থেকে গ্রামে বাড়ির মধ্যে খোলা জানলা দিয়ে খোলা আকাশে দিকে তাকিয়ে আর পাঁচটা মানুষের মতো বাঁচার লড়াই সংগ্রাম। কঠিন লড়াইকে হার মানিয়ে লেখাপড়া শিখে পাশ করে, ভবিষ্যতে চাকরি পেয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চায়। নুন আনতে পান্তা ফুরায় যে হতদরিদ্র পরিবারের সেখান থেকেই দু’ফুটের মনিরা এবছর বাড়ি থেকে মায়ের সঙ্গে ভ্যান রিজার্ভ করে ভ্যানের উপর শুয়ে শরীরটাকে টেনে নিয়ে মনের জোরে পরীক্ষাকেন্দ্রে আসছে। তাকে আলাদা করে বেঞ্চ ওপরে শুয়ে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।

সে এবার ধুতুরদহ কল্যাণ পরিষদ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী। তার পরীক্ষা কেন্দ্র পড়েছে বামুনপুকুরিয়া এস এম এম হাই স্কুলে। মিনাখাঁ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গোপেশ চন্দ্র পাত্র বলেন আমরা সব রকম ভাবেই পরিবারের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি আগামী দিনে মনিরা যাতে বড় হয়, তার জন্য সরকারিভাবে তার সবরকম সাহায্য করা হবে।