কলকাতা: চলতি বছরে মাধ্যমিক পরীক্ষায় গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর ২০ থেকে ৩০ হাজার পরীক্ষার্থী কমতে পারে। গত বছর রাজ্যে মোট ১০ লক্ষ ৫০ হাজারের কিছু বেশি পড়ুয়া মাধ্যমিকে বসেছিলেন।

এবছর শুধু মোবাইলই নয়, স্মার্ট ঘড়ি পরে বা নিয়েও পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। নকল এড়াতে বা পরীক্ষা সংক্রান্ত অপ্রীতিকর কোন পরিস্থিতি রুখতেই পর্ষদের এই কড়াকড়ি। শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশই মধ্যশিক্ষা পর্ষদের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এবছর কোনও শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীও মোবাইল, স্মার্ট ঘড়ি পরে মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন না।

এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ১৮ ফেব্রুয়ারি। ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে পরীক্ষা। এদিকে, পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল বা স্মার্ট ঘড়ি পরে না ঢোকা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেছে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়। ঠিক কী কী কারণে মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রে পর্ষদ কড়াকড়ি করতে চায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলে।

গত বছর মাধ্যমিকের বেশ কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা চলাকালীনই হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নের বেশ কয়েকটির সঙ্গে আসল প্রশ্নের মিলও খুঁজে পাওয়া যায়। তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। পুলিশি নজরদারির অভাভের অভিযোগ ওঠার পাশাপাশি মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দিকেও অভিযোগের আঙুল ওঠে। এমনকী রাজ্য সরকারকেও যথেষ্টই অস্বস্তিতে পড়তে হয়।

একাধিক সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার আরও কড়া মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ও স্মার্ট ঘড়ি নিয়ে ঢোকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের ভিতরে পড়ুযা বা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর কাছে মোবাইল ও স্মার্টঘড়ি মিললে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে৷ এমনকী এক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর পরীক্ষাও বাতিল করা হতে পারে।