মুম্বই: বাস্তবে এমনিতেই পরিচালক মধুর ভান্ডারকরের বিভিন্ন ছবি নিয়ে সিনেমাপ্রেমীদের কৌতূহল বরাবরই একটু বেশি৷ আর সেখানে যদি জরুরি অবস্থার রাজনীতি ছবির বিষয়বস্তু হয়ে যায় তাহলে তো অন্যমাত্রা পাবেই৷ সেটাই হচ্ছে এখন তাঁর নতুন ছবি ‘ইন্দু সরকার’ঘিরে৷ স্বাভাবিক ভাবেই এই ছবি ঘিরে কৌতূহল যেমন বাড়ছে তেমনই আবার শুরু হয়েছে বিরোধিতাও৷ কারণ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং তার পুত্র সঞ্জয় গান্ধীকে ছবিতে কেমন ভাবে তুলে ধরা হয়েছে তা নিয়ে আতঙ্কিত কংগ্রেস ৷ সেই আতঙ্ক অনেক সময় ক্ষোভ বিক্ষোভ এবং হুমকিতে পরিণত হচ্ছে৷ এই সমস্যা উত্তরোত্তর বাড়তে দেখে পরিচালকের নিরাপত্তার কথা ভেবে মহারাষ্ট্র সরকার তাঁরজন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে ৷

আরও পড়ুন: ইন্দু সরকার-এর সাংবাদিক সম্মেলন বন্ধে বিক্ষুব্ধ মধুরের ট্যুইট রাহুলকে

বিভিন্ন শহরে ‘ইন্দু সরকার’ ছবির প্রচার বা সাংবাদিক সম্মেলনে গিয়ে বিক্ষোভের জেরে পরিচালক পড়ায় নিরাপত্তার দিকটি নিয়ে চিন্তা ক্রমশই বাড়ছে৷ পুণে থেকে নাগপুর, বিভিন্ন জায়গায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ছবির প্রচারে বিরোধিতা দেখা গিয়েছে৷ পরিস্থিতি এমনই পর্যায়ে গিয়েছে যে ইন্দোরে ছবি মুক্তির বিষয়ে জল ঘোলা হচ্ছে ৷ কংগ্রেসের আশংকা, গান্ধী পরিবারকে নিয়ে এই ছবিতে কিছু আপত্তিজনক কথা রয়েছে৷ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মন্তব্য, ‘এই ছবির পেছনে কারা রয়েছে তা সকলেই জানে, আর তাই ছবিতে তথ্য ভুল ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে’৷

আরও পড়ুন: ইন্দু সরকার-এ কিছু দৃশ্য বাদ না গেলে উঠে আসত অজানা তথ্য: মধুর

প্রসঙ্গত, জরুরী অবস্থার প্রেক্ষাপটে যে সব ছবি হয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি৷ এর আগে, ১৯৭৫সালে গুলজারের ছবি ‘আঁধি’-তে ইন্দিরা গান্ধীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার অভিযোগ ওঠে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে৷ এমনকি পরবর্তীকালে প্রকাশ ঝা-এর ‘রাজনীতি’ ছবিটিও সমস্যার সম্মুখীন হয়৷ আর মধুর ভান্ডারকরের ‘ইন্দু সরকার’ যে সেই বৈতরণী কতটা পার করতে পারবে সেটা সময়ই বলবে৷