ফাইল ছবি

খেজুরিঃ গ্রামের বাড়িতেই মধূচক্র চালানোর অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মধুচক্র চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। আর সেই অভিযোগে অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতার বাড়িতে চড়াও হল গ্রামবাসীরা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে খেজুরির হেঁড়িয়ার কৃষ্ণনগরে।

পড়ুন আরও- মধুচক্র চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার সিভিক ভলেন্টিয়ার ও তৃণমূল কর্মী

শুধু তাই নয়, ওই তৃণমূল নেতার বাড়ি ঢুকে কার্যত চক্ষুচড়ক অবস্থা হয় গ্রামবাসীদের। ওই তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে এক মহিলাকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে এলাকার মানুষ। এই ঘটনায় আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে এলাকার মানুষ। ওই মহিলাকে গাছে বেঁধে চলতে থাকে গণধোলাই।

শুধু তাই নয়, গ্রামবাসীরা মহিলাকে গাছে বেঁধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা মঙ্গল মাইতির বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে মধুচক্রের ব্যবসা চালাছিল। ওই ব্যক্তি এলাকায় তৃণমূলের হোমরা চোমরা পরিচয়ে দাপটের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল বলে দাবী এলাকাবাসীর।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার এক মহিলা এই মধুচক্রের আসরের প্রতিবাদ করায় তাঁকে বেধড়ক মারধর করে অভিযুক্ত মঙ্গল। এর জেরে মহিলা গুরুতর জখম হন। বেশ কিছু সময় ওই মহিলার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ। পরে মহিলাটি তমলুক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে জানা যায়। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। এরপরেই আজ বুধবার গ্রামবাসীরা চূড়ান্ত ক্ষেপে যান। এদিন গ্রামের মহিলা ও পুরুষরা ওই ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে এক মহিলাকে পাকড়াও করে। তবে তিনি অভিযুক্তের স্ত্রী নয় বলেই দাবী এলাকাবাসীর।

ওই মহিলাকে গ্রামবাসীরা টেনে এনে রাস্তার পাশের একটি খুঁটিতে বেঁধে রাখেন। চলে মারধরও। তবে ঘটনাটি আঁচ করতে পেরেই এলাকা ছাড়া মঙ্গল মাইতি। পরে খবর পেয়ে হেড়িয়া পুলিশ ফাঁড়িতে ওই মহিলাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় তৃণমূলের তরফে এখনও কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। ধৃত মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা ঘটনার সত্যতা খোঁজার চেষ্টা হচ্ছে। সেই সঙ্গে মঙ্গলকে ধরতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।