সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : শেষ হল দীর্ঘ ৯০ বছরের লড়াই। চলে গেল মধুবালা । জলদাপাড়ায় শোকের ছায়া। ৫০ বছর ধরে বন দফতরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিল এই মহিলা হাতি। বার্ধক্যজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বন দফতর।

জলসাপাড়ার এই অতন্দ্র প্রহরীর ১৯৩০ সালে জন্ম। বন দফতর তাঁকে কেনে ১৯৬৩-৭০ সালে। তারপর থেকে জলদাপাড়ায় বনদফতরের প্রহরী হিসাবে কাজ শুরু করে সে। চোরা পাচার রখা থেকে শুরু করে কাঠ চুরি রোখা। সবকিছুতেই নিজের সেরাটা রাজ্য বন দফতরকে দিয়েছে এই মহিলা হাতি। সেই থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত সে কাজ করে গিয়েছে। মধুবালার ৮টি সন্তান রয়েছে। বন দফতর তাঁকে বিশেষ সম্মান জানিয়েছে। এক আধিকারিক সূত্রে জানা গিয়েছে বার্ধক্যজনিন কারণে মধুবালার দুটি দাঁতই ভেঙে গিয়েছিল। ঠিক করে খেতে পারত না। শেষ পর্যন্ত এদিন ময়রাডাঙায় মৃত্যু হয় তাঁর।

 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পরপর কয়েকটি গণ্ডার ও হাতির মৃত্যুতে বনে আতঙ্ক ছড়ায়। আনথ্রাক্সের আশঙ্কায় বন্ধ রাখে হয়েছিল জলদাপাড়ার হাতি সাফারিও। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ২১৬.৫১ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ২৫০টির উপর একশৃঙ্গ গন্ডার রয়েছে, আছে দু’হাজারের বেশি ইন্ডিয়ান গাউর, বিভিন্ন প্রজাতির হরিণের সংখ্যা তিন হাজারের কম নয়, এছাড়াও সর্বক্ষণের জন্য বুনো হাতির পালের আনাগোনা লেগেই থাকে ওই বনাঞ্চলে। ওই ঘটনার পর ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল। আশঙ্কায় হাতিদের শরীরে কিছু প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছিল।

জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলায় পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান। প্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৪১ সালে জলদাপাড়া অভয়ারণ্য ঘোষিত হয়। ১০ মে, ২০১২ তারিখে জলদাপাড়া বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যকে “জাতীয় উদ্যান” ঘোষণা করা হয়। এই বনভূমি প্রধানত লম্বা এলিফ্যান্ট ঘাসবিশিষ্ট সাভানা অঞ্চল। জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের মুখ্য আকর্ষণ এশীয় একশৃঙ্গ গন্ডার। অসমের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের পর ভারতে এই অভয়ারণ্যেই সর্বাধিক সংখ্যক গন্ডারের দেখা মেলে।

 

এই অভয়ারণ্যে বসবাসকারী অন্যান্য বন্যপ্রাণীগুলি হল বেঙ্গল টাইগার, হাতি, সম্বর হরিণ, মায়া হরিণ, চিতল হরিণ, হগ ডিয়ার, বুনো শুয়োর ও গৌর। জলদাপাড়া পক্ষীদর্শকদের কাছে স্বর্গরাজ্য। ভারতের যে অল্প কয়েকটি অঞ্চলে বেঙ্গল ফ্লোরিক্যান দেখা যায়, তার মধ্যে জলদাপাড়া অন্যতম। এখানে দেখা যায় এমন অন্যান্য পাখিগুলি হল ক্রেস্টেড ইগল, পালাস’স ফিশিং ইগল ও শিরকা। এছাড়া দেখা যায় বনমোরগ, ময়ূর, তোতা, বেঙ্গল ফ্লোরিক্যান, লেসার পেইড হর্নবিল প্রভৃতি। এখানে অজগর, গিরগিটি, ক্রেট, কোবরা, গুই সাপ গিকোস ও মিষ্টি জলে বসবাসকারী কচ্ছপের আটটি প্রজাতির দেখা মেলে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প